সর্বশেষ :
রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজনে ৬ কমিটি প্রবাসী আয়ে সুবাতাস, ৮ দিনে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৯১৫ মিলিয়ন ডলার কোন পথে এগোচ্ছে ট্রুডো-কেটি পেরির প্রেম? গণমাধ্যমে সংবাদ পরিবেশনে যেন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি বিকৃত না হয় : তথ্যমন্ত্রী ব্রেট লির মতে, শচীন সেরা ব্যাটার হলেও সর্বকালের সেরা ক্যালিস মেয়েকে গণধর্ষণ মামলায় মায়ের ১৫ বছরের কারাদণ্ড সৌদি ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচনে বৈধ প্রার্থী একজন, বাদ পাঁচ প্যানেল ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ হলেও নির্ভার রাবাদা বামপন্থার অবসান, ফিরল ডানপন্থী শাসন: কেন দে লা এসপ্রিয়েলার ওপর বাজি ধরলেন ট্রাম্প? দেশ গঠনে আলেম-ওলামাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

নাকবা থেকে গণহত্যা: গাজার এক দাদির প্রতিরোধ আর হারানোর গল্প

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-১৫, | ১৮:৩১:১৮ |

৯৫ বছর বয়সী ফাতেমা ওবাইদ যখন কথা বলছিলেন, তখন তার চোখের কোণায় শুধু পানি নয় বরং টলমল করছিল আট দশকের জমাট বাঁধা এক দীর্ঘ ইতিহাস। ১৯৪৮ সালের নাকবার (মহাবিপর্যয়) সাক্ষী এই বৃদ্ধ ২০২৬ সালেও দাঁড়িয়ে আছেন আরও এক ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের সামনে। গত দুই বছরে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় তিনি হারিয়েছেন তার পরিবারের অন্তত ৭০ জন সদস্যকে। একের পর এক প্রিয়জনকে হারানোর শোক, অনাহার আর বারবার ঠিকানা বদলের যন্ত্রণা সহ্য করেও ফাতেমা এখনো তার জন্মভূমি ছাড়তে নারাজ।

ফাতেমা ওবাইদ জানান, বর্তমানের এই পরিস্থিতি ১৯৪৮ সালের নকবার চেয়েও অনেক বেশি ভয়ংকর। তার ভাষায়, সেই সময় মানুষ তাদের ঘরবাড়ি আর জমি হারিয়েছিল ঠিকই কিন্তু এবারের বিপর্যয়ে ফিলিস্তিনিরা হারিয়ে ফেলছে তাদের পুরো ইতিহাস ও প্রজন্মকে। শুজাইয়া পাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা ফাতেমা তার জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন নিজের ভিটেমাটিতেই। কিন্তু ২০২৩ সালের পর থেকে অন্তত দশবার তাকে আশ্রয়ের খোঁজে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছুটতে হয়েছে। ইসরায়েলি বোমায় তার সাজানো ঘর আর পুরো পাড়া এখন শুধুই ধ্বংসস্তূপ। সেখানে এখন গড়ে তোলা হয়েছে সামরিক নো-গো জোন।

স্মৃতির ঝাঁপি খুলে ফাতেমা বলছিলেন তার হারিয়ে যাওয়া সংসারের কথা। বিয়ের সময় বাবার দেওয়া সাদা রঙের সেই গাউন আর স্বামীর ব্যবহৃত জামাকাপড় তিনি পরম মমতায় আগলে রেখেছিলেন দীর্ঘ ৮০ বছর। কিন্তু প্রাণ বাঁচাতে ঘর ছাড়ার সময় সঙ্গে কিছুই নিতে পারেননি তিনি। আজ তার সম্বল বলতে আছে কেবল কানে পরা একজোড়া দুল, যা ১৯৪৮ সালের আগে তার বাবা তাকে উপহার দিয়েছিলেন। তার মতে, পরিবারের অসংখ্য সদস্য মারা গেলেও এই দুলজোড়া এখনো দুই নাকবার সাক্ষী হয়ে বেঁচে আছে।

ফাতেমা ওবাইদের মতো গাজার প্রবীণ প্রজন্ম এখন বিলুপ্তির পথে। গত কয়েক বছরে কয়েক হাজার প্রবীণ ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি হামলায় ও চিকিৎসার অভাবে প্রাণ হারিয়েছেন। নিজের সন্তানদের প্রায় সবাইকে হারানো ফাতেমা এখন ভাঙাচোরা এক অ্যাপার্টমেন্টে নাতি-নাতনিদের সঙ্গে দিন কাটাচ্ছেন। অনাহার আর পানির তীব্র সংকটে তার শরীর ভেঙে পড়লেও মনের জোর হারাননি তিনি। নিজ ভূমি ছেড়ে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, জীবনের এই শেষ প্রান্তে এসে শরণার্থী হয়ে অন্য কোথাও মরতে চান না তিনি। ফাতেমার এই জীবনগাঁথা কেবল একজন বৃদ্ধার লড়াই নয় বরং এক জাতির টিকে থাকার অদম্য সংকল্পের প্রতীক।

সূত্র: মিডলইস্ট আই

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..