✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-১৫, | ১৮:৩০:১৪ |ইরানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাবে একটি সমন্বিত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোকে রাজি করানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। সৌদি আরব ও কাতারের মতো প্রভাবশালী দেশগুলো এই প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় বর্তমানে আবুধাবির সাথে তাদের কূটনৈতিক দূরত্ব এক নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। পরিস্থিতির সাথে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ নিউজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানের ওপর বোমাবর্ষণ শুরু করে, তার পরপরই সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান (এমবিজেড) সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানসহ অন্যান্য আঞ্চলিক নেতাদের সাথে জরুরি ফোনালাপ শুরু করেন। এমবিজেড যুক্তি দিয়েছিলেন যে, ইরানের আক্রমণ প্রতিহত করতে এবং তাদের দমন করতে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর একজোট হয়ে পাল্টা হামলা চালানো জরুরি। তবে সৌদি আরব এবং কাতার সাফ জানিয়ে দেয় যে, তারা এই যুদ্ধে সরাসরি জড়াতে ইচ্ছুক নয়।
ইরানি হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর, বিমানবন্দর এবং আবাসিক এলাকাগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে তেল ও গ্যাস উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো। এই সংকটের মুখে এমবিজেড ট্রাম্প প্রশাসন ও ইসরায়েলের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিলেও তার আরব প্রতিবেশীরা একে নিজেদের যুদ্ধ হিসেবে গণ্য করতে অস্বীকৃতি জানায়। বিষয়টি নিয়ে সৌদি আরবের সাথে আমিরাতের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর এই নির্লিপ্ততায় ক্ষুব্ধ হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত গত এপ্রিলের শেষের দিকে জ্বালানি তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেকের সদস্যপদ ত্যাগ করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়। একইসাথে তারা জিসিসি বা উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সদস্যপদ পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছে। জানা গেছে, মার্চ ও এপ্রিল মাসে আমিরাত এককভাবে ইরানের ওপর সীমিত আকারে হামলা চালিয়েছিল কিন্তু সেখানে সৌদি আরবের কোনো সমর্থন ছিল না।
অন্যদিকে, কাতার তার বৃহত্তম গ্যাস প্ল্যান্টে হামলা সত্ত্বেও উত্তেজনা প্রশমনের পথ বেছে নিয়েছে। সৌদি আরবও যুদ্ধের চেয়ে পাকিস্তানের মাধ্যমে কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই ইসরায়েলের সাথে সামরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করেছে আমিরাত। ইসরায়েল ইতিমধ্যে তাদের অত্যাধুনিক 'আয়রন ডোম' প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আমিরাতে মোতায়েন করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিবর্তিত ভূ-রাজনীতি এখন এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে দীর্ঘদিনের মিত্রদের মধ্যেই তৈরি হয়েছে অবিশ্বাসের দেয়াল।