ইরান ইস্যুতে ধৈর্য হারাচ্ছেন ট্রাম্প

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-১৫, | ১৮:২২:২৯ |

বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর ইরান ইস্যুতে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা জানান দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরান প্রশ্নে তিনি ক্রমশ ধৈর্য হারাচ্ছেন এবং তেহরানকে দ্রুত একটি চুক্তিতে আসতে হবে। 

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে স্থবির হয়ে পড়া আলোচনার মাঝেই এই মন্তব্য করলেন তিনি। ট্রাম্পের মতে, ইরান যদি তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর না করে, তবে আলোচনার পথ আরও সংকীর্ণ হয়ে পড়বে। যদিও তিনি এই মজুত হস্তান্তরকে বড় কোনো কৌশলগত বিষয়ের চেয়ে ‘জনসংযোগ’ হিসেবেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন, তবুও নিরাপত্তার খাতিরে এটি ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণে থাকা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ওমান উপকূলের কাছে একটি পশুবাহী কার্গো জাহাজ রহস্যজনক বিস্ফোরণে ডুবে যাওয়ার পর এই অস্থিরতা আরও বেড়েছে। ব্রিটিশ নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর দাবি, জাহাজটিতে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। একই সময়ে আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের কাছ থেকে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ইরানি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার খবর আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। 

গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের জেরে ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রাখায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বিপর্যয় নেমে এসেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি সামরিক মুক্ত রাখতে এবং নৌ চলাচল স্বাভাবিক করতে একমত হয়েছেন।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, শি জিনপিং হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের সামরিকীকরণ ও টোল আদায়ের বিরোধিতা করেছেন। একই সাথে ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেই লক্ষ্যেও দুই পরাশক্তি একমত হয়েছে। 

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, চীন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা ইরানকে কোনো ধরনের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে না। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানের সাথে এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ট্রাম্পের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই বেইজিংয়ের প্রভাব খাটিয়ে তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। তবে চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে ইরান কতটুকু চাপে পড়বে, তা নিয়ে এখনো যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তবুও জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে বেইজিং এই সংকট সমাধানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে আগ্রহী বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..