মার্কিন নৌ-অবরোধ মোকাবিলায় ইরানের নতুন তুরুপের তাস

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-১৫, | ১৮:২০:৫২ |

তেহরান-ইসলামাবাদের মধ্যেকার দীর্ঘদিনের স্থবির বাণিজ্যিক সম্পর্ক এখন এক নতুন মোড় নিতে শুরু করেছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর ক্রমবর্ধমান চাপ এবং সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে বাধার মুখে পড়ে বিকল্প হিসেবে পাকিস্তানের স্থলপথ ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে ইরান। বিশেষ করে গত পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলমান মার্কিন নৌ-অবরোধের ফলে ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি একটি বিশেষ রেগুলেটরি অর্ডার (এসআরও) জারি করেছে, যেখানে তৃতীয় দেশ থেকে পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানে পণ্য পাঠানোর জন্য ছয়টি ট্রানজিট রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। করাচি, পোর্ট কাসিম এবং গোয়াদর বন্দর এই রুটগুলো সরাসরি ইরানের গাবদ ও তাফতান সীমান্ত পয়েন্টের সাথে যুক্ত করবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রায় দুই দশক ধরে ঝুলে থাকা এই প্রকল্প হঠাৎ কার্যকর হওয়ার পেছনে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বড় ভূমিকা পালন করছে। সমুদ্রপথে যুদ্ধকালীন ঝুঁকির কারণে বিমার প্রিমিয়াম কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় অনেক জাহাজ কোম্পানি ইরান অভিমুখে যাত্রা বন্ধ করে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে করাচি বন্দরে আটকা পড়া হাজার হাজার কন্টেইনার এখন লরিতে করে পাকিস্তান-ইরান সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছে। 

এই নতুন করিডোরটি কেবল ইরানের জন্যই নয় বরং পাকিস্তানের গোয়াদর বন্দরের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে। অতীতে ইরান তার নিজস্ব চাবাহার বন্দরের গুরুত্ব কমে যাওয়ার ভয়ে এই রুটটি নিয়ে দ্বিধায় থাকলেও বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সেই কৌশলগত অবস্থান থেকে সরে এসেছে।

এই স্থলপথ ব্যবহারের মাধ্যমে ইরান কেবল নিজের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাচ্ছে না বরং মধ্য এশিয়া ও রাশিয়ার সাথে সংযুক্ত হওয়ার জন্য একটি বিকল্প বাণিজ্যিক করিডোর তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। ইতোমধ্যেই এই পথ ব্যবহার করে উজবেকিস্তানে হিমায়িত মাংসের পরীক্ষামূলক চালান পাঠানোর খবর পাওয়া গেছে। তবে এই উদ্যোগের পথে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। পাকিস্তানের বেলুচিস্তান অঞ্চলের অনুন্নত অবকাঠামো, প্রশাসনিক দুর্নীতি এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। 

এছাড়া পাকিস্তান এই বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কতটা ওয়াশিংটনের চাপ সহ্য করতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে আপাতত সমুদ্রপথের সীমাবদ্ধতা কাটাতে এই করিডোরটি তেহরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক স্বস্তির জায়গা হিসেবে কাজ করছে। 

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..