‘বসনিয়ার কসাই’ ম্লাদিচের মুক্তির আবেদনে সাড়া নেই আদালতের

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-১৫, | ১৮:২০:০৪ |

জাতিসংঘের একটি আদালত বসনীয় সার্ব যুদ্ধাপরাধী রাতকো ম্লাদিচ কারাগার থেকে মুক্তির আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সালের যুগোস্লাভিয়া যুদ্ধের সময় গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৭ সালে ৮৪ বছর বয়সী ম্লাদিচকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

‘বসনিয়ার কসাই’ নামে পরিচিত রাতকো ম্লাদিচের এই সাজা ২০২১ সালে আপিলেও বহাল রাখা হয়। আদালত বলেছে, তিনি জীবনের শেষ পর্যায়ে থাকলেও নেদারল্যান্ডসে জাতিসংঘের কারাগার ও হাসপাতালে তার জন্য ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে।

বিচারক গ্রাসিয়েলা গাটি সান্তানা বলেন, সেখানে এমন সুবিধা রয়েছে যাতে ম্লাদিচের সর্বোচ্চ আরাম নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি আরো বলেন, নেদারল্যান্ডসের বাইরে অতিরিক্ত ভালো কোনো চিকিৎসার সুযোগ নেই।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দেওয়া লিখিত রায়ে বিচারক বলেন, ম্লাদিচের বর্তমান শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। তবে তিনি এখনো ডাক্তার, নার্স ও কারাগারের কর্মীদের কাছ থেকে নিয়মিত ও সহানুভূতিশীল চিকিৎসা পাচ্ছেন। রায়ে বলা হয়েছে, রাতকো ম্লাদিচ বিশেষ সাক্ষাতের সুবিধা পাচ্ছেন। এর ফলে তিনি পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতে পারছেন।

এমনকি তার জীবনের শেষ সময়ে পরিবারের সদস্যরা পাশে থাকার সুযোগও পেতে পারেন। তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এই মাসের শুরুতে ম্লাদিচের আইনজীবীরা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী বা হুইলচেয়ারে আছেন। পরে ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় তার স্ট্রোক হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এর পর থেকে তিনি প্রায় কথা বলতে পারছেন না।

আইনজীবীদের দাবি, দুইজন ডাক্তার তার অবস্থা খুবই গুরুতর বলে জানিয়েছেন এবং যেকোনো সময় মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে। তাই তারা তাকে দ্রুত সাময়িক বা শর্তসাপেক্ষ মুক্তি দিয়ে এমন কোনো হাসপাতালে নেওয়ার আহ্বান জানান, যেখানে সার্বিয়ান ভাষায় চিকিৎসা সেবা পাওয়া যাবে। প্রতিরক্ষা দল তাকে নিজ দেশে ফেরানোর চেষ্টা করছিল বলেও স্পষ্ট হয়েছে। 

সার্বিয়া সরকারও জানিয়েছে, তাকে মুক্তি দেওয়া হলে তারা আদালতকে প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা দিতে প্রস্তুত। ১৯৯০-এর দশকের বসনিয়া যুদ্ধে রাতকো ম্লাদিচ বসনীয় সার্ব বাহিনীর নেতৃত্ব দেন। তার বাহিনী বসনীয় ক্রোয়েট ও বসনিয়াক মুসলিমদের বিরুদ্ধে ‘জাতিগত নির্মূল’ অভিযান চালায়। তারা রাজধানী সারায়েভো শহর অবরোধ করে, যেখানে ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়। এ ছাড়া সেব্রেনিকাতে প্রায় ৮ হাজার মুসলিম পুরুষ ও কিশোরকে হত্যা করা হয়।

এই বসনিয়া যুদ্ধে এক লাখের বেশি মানুষ নিহত হয় এবং প্রায় ২০ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়ে পড়েন। ১৯৯৫ সালে ম্লাদিচ আত্মগোপনে চলে যান। ১৬ বছর পলাতক থাকার পর ২০১১ সালে সার্বিয়ার একটি গ্রামাঞ্চল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২০১২ সালে নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে তার বিচার শুরু হয় এবং ২০১৭ সালে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ভুক্তভোগী ও বেঁচে যাওয়া মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী বসনীয় সংগঠনগুলো ম্লাদিচকে মুক্তি দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, এটি মানবিক আবেদন নয়, বরং কারাগার থেকে বের হওয়ার জন্য একটি আইনি কৌশল।

তথ্য সূত্র- বিবিসি।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..