✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-১৪, | ১৭:৩৪:০০ |বিশ্বকাপ শুরুর আগেই গণপরিবহণের অস্বাভাবিক ভাড়া বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে নিউ ইয়র্ক প্রশাসন। ফুটবল ভক্তদের ক্ষোভ ও ফিফার চাপের পর শেষ পর্যন্ত ট্রেন ও শাটল বাসের ভাড়া কমাতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হওয়ার কথা ফুটবল বিশ্বকাপ।
নিউ ইয়র্কের পেন স্টেশন থেকে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের দূরত্ব প্রায় ২৯ কিলোমিটার। এই স্টেডিয়ামেই অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের ফাইনালসহ মোট আটটি ম্যাচ। সাধারণ সময়ে এই রুটে ট্রেনের রিটার্ন টিকিটের দাম প্রায় ১৩ ডলার হলেও, বিশ্বকাপ উপলক্ষে সেটি বাড়িয়ে প্রায় ১৫০ ডলার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।
এত বেশি ভাড়া নির্ধারণের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়। পরে ফিফার আপত্তি ও জনচাপের মুখে ট্রেনের রিটার্ন ভাড়া কমিয়ে ৯৮ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও সমর্থকদের দাবি, এই ভাড়াও এখনও অত্যন্ত বেশি।
শুধু ট্রেন নয়, শাটল বাসের ভাড়াও বাড়ানো হয়েছিল ৯ ডলার থেকে ৮০ ডলারে। পরে সেটি কমিয়ে ২০ ডলারে আনার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। স্থানীয়দের ধারণা, জনরোষ বাড়তে থাকলে ভাড়া আরও কমানো হতে পারে।
এর আগে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ ও ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ম্যাচের টিকিট থাকলে দর্শকদের জন্য গণপরিবহণে বিনা খরচে যাতায়াতের ব্যবস্থা ছিল। ২০১৮ সালে ফিফার সঙ্গে চুক্তির সময় যুক্তরাষ্ট্রও একই ধরনের সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছিল। তবে পরে বিভিন্ন শহরের আপত্তির কারণে সেই সিদ্ধান্ত বদলে যায়।
ফিফার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ভাড়া বিশ্বজুড়ে অসংখ্য সমর্থকের জন্য মাঠে পৌঁছানো কঠিন করে তুলবে। এমন পরিস্থিতি অতীতের কোনো বিশ্বকাপেই দেখা যায়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইংল্যান্ড জাতীয় দলের সমর্থক সংগঠনের নেতা টমাস কনকাননের অভিযোগ, অস্বাভাবিকভাবে ট্রেন ও বাসের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়ে দেন, ট্রেনের ভাড়া ১৫০ ডলার থেকে কমিয়ে ৯৮ ডলার করা হচ্ছে।
নিউ ইয়র্কের পাশাপাশি বোস্টনেও গণপরিবহণের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ফিলাডেলফিয়া ও কানসাস সিটিতে অতিরিক্ত ভাড়া আরোপ করা হয়নি। এই বৈষম্য নিয়েও ক্ষুব্ধ ফুটবলপ্রেমীরা। তাদের প্রশ্ন, বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই খেলাকে ঘিরে যখন অন্য দেশগুলো সমর্থকদের বিশেষ সুবিধা দিয়েছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র কেন উল্টো পথে হাঁটছে?