ইরান যুদ্ধ

বিশ্ববাজারে দৈনিক জ্বালানি তেলের ঘাটতি ৪৮ লাখ ব্যারেল

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-১০, | ১৩:৩৭:০৩ |
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন ঘটায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকটে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে দৈনিক প্রায় ৪৮ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেলের ঘাটতি রয়েছে। পিএল ক্যাপিটালের ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, উচ্চমূল্যের কারণে জ্বালানি তেলের চাহিদা কমে যাওয়ার (ডিমান্ড ডেসট্রাকশন) মাধ্যমেই মূলত এ বিশাল ঘাটতি মেটানো সম্ভব হতে পারে। খবর দ্য হিন্দু বিজনেসলাইন।

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে তেলের দাম যেমন বেড়েছে, তেমনি বাজারে অস্থিরতাও বেড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিবহনে বাধা আসায় বড় ধরনের সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দৈনিক প্রায় দেড় কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।

এ সংকট মোকাবেলায় এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের জরুরি মজুদ থেকে প্রায় ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে তেল রফতানির চেষ্টাও চলছে। এতে দৈনিক প্রায় ৬২ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে আসছে। তবে এ জরুরি পদক্ষেপ ও বিকল্প পথ ব্যবহারের পরও বাজারে দৈনিক ৪৮ লাখ ব্যারেল তেলের ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বাজারের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে জ্বালানি তেলের চাহিদা কমিয়ে আনা ছাড়া আর কোনো সহজ পথ নেই। জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দামের কারণে সাধারণ গ্রাহক থেকে শুরু করে বড় শিল্প-কারখানাগুলো এখন তেলের ব্যবহার কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। পিএল ক্যাপিটালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জ্বালানি তেলের চাহিদা এভাবে কমতে থাকলে ভবিষ্যতে দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ তৈরি হবে, যা বাজার স্থিতিশীল করতে সহায়ক হতে পারে।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের চাহিদা কমে যাওয়ার প্রাথমিক লক্ষণগুলো এরই মধ্যে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। আইইএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা দৈনিক ১৫ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত কমে যেতে পারে। বিশেষ করে এপ্রিলের তথ্যানুযায়ী, এ হ্রাসের পরিমাণ ২৩ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত হতে পারে। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন চাহিদার এ পতন দৈনিক ৪০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। চড়া দামের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের ব্যবহারিক ধরনে পরিবর্তন আসছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

জ্বালানি তেলের এ চাহিদা কমার প্রবণতা প্রথমে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোয় বেশি দেখা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তেলের চড়া দাম বজায় থাকলে এর প্রভাব ধীরে ধীরে ইউরোপ ও আমেরিকায়ও ছড়িয়ে পড়বে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে আমদানিকারক দেশগুলো তেল সাশ্রয়ে নতুন নীতিমালা বা পদক্ষেপ নিতে পারে।

প্রতিবেদনটিতে তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি ইতিবাচক সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। চাহিদা কমে যাওয়ায় জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করলে এসব প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

আপাতত বিশ্ব জ্বালানি বাজার এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সরবরাহ সংকটের এ বাজারে কীভাবে চাহিদার পরিবর্তনের মাধ্যমে ভারসাম্যে ফিরে আসে, সেটিই এখন বড় দেখার বিষয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এ ৪৮ লাখ ব্যারেলের ঘাটতি বড় অর্থনৈতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজার স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতিতে এ অস্থিরতার প্রভাব বজায় থাকতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..