প্রতিবেশীর সঙ্গে বন্ধুত্ব হবে, কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক নয় : গয়েশ্বর

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-৩০, | ১৮:৫৯:১৩ |
স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়, তবে তা কখনোই দাসত্বে পরিণত হতে পারে না। প্রতিবেশীর সঙ্গে বন্ধুত্ব হবে, কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক নয়।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অবশ্যই বন্ধুত্বপূর্ণ হবে, তবে তা সমমর্যাদার ভিত্তিতে গড়ে উঠতে হবে। তিনি মন্তব্য করেন, 'প্রতিবেশীর সঙ্গে বন্ধুত্ব হবে, কিন্তু তা কখনোই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মতো হতে পারে না।' জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনো সম্পর্ক গ্রহণযোগ্য নয় বলেও জোর দেন তিনি।

তার বক্তব্যে তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান চাটুকারিতা পছন্দ করতেন না এবং সমালোচনাকে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হিসেবে দেখতেন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার আহ্বান জানিয়ে তিনি জাতিকে কেবল আত্মরক্ষার জন্য নয়, বরং পাক হানাদার বাহিনীকে বিতাড়িত করার জন্য প্রস্তুত হতে বলেছিলেন। সেই সময় অনেক নেতার নিষ্ক্রিয় ভূমিকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন এবং দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই শহীদ জিয়াউর রহমানের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করছে না।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক প্রয়োজনে বাংলাদেশ সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব চায়, কিন্তু সেই সম্পর্ক কখনোই দাসত্বে পরিণত হতে পারে না। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে।


খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি। একসময় তাকে ক্ষমা চাইতে বলা হলেও তিনি মাথা নত করেননি এবং আজ তিনি 'মাদার অব ডেমোক্রেসি' হিসেবে স্বীকৃত।

১/১১ এর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে গয়েশ্বর বলেন, সে সময় বিরাজনীতিকরণের চাপের মুখে অনেক নেতা দল ছেড়ে গেলেও তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই দলের শক্তি হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়া কারাবরণ করেছেন, কিন্তু দেশত্যাগ করেননি।

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি দ্রুত নৈতিক ও সর্বাত্মক সমর্থন জানায়। তিনি বলেন, এই আন্দোলন কোনো একক দলের নয়, বরং বিভিন্ন স্তরের মানুষের সম্মিলিত ত্যাগের ফল।

মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও বর্তমান ভূ-রাজনীতির তুলনা করে তিনি বলেন, ১৯৪৭ এর দেশভাগ, ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, সবকিছুর মূলে ছিল বঞ্চনা থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু বর্তমানেও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জাতীয় মর্যাদা রক্ষা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

বিএনপির প্রতিষ্ঠার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের হাত ধরে দলের জন্ম হতে দেখা তার জন্য গর্বের। তিনি ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য রাজনীতি করেন না উল্লেখ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর ভুয়া সার্টিফিকেটধারীদের দাপট দেখে তিনি নিজের আসল সার্টিফিকেট ছিঁড়ে ফেলেছিলেন, কারণ তিনি যুদ্ধের বিনিময়ে কোনো কিছু প্রত্যাশা করেননি।

শেষে তিনি দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, কেবল নেতাদের নাম উচ্চারণ করলেই চলবে না, তাদের আদর্শ অনুসরণ করেই প্রকৃত দেশপ্রেমের পরিচয় দিতে হবে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..