কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের অনুসন্ধানমূলক অনুষ্ঠান ‘দ্য ফিফথ স্টেইট’-এর ‘করাপশন, ক্রাইম অ্যান্ড ক্রিকেট’ পর্বে দাবি করা হয়েছে, কানাডার ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণ লরেন্স বিশ্নোই গোষ্ঠীর হাতে। এই তথ্যচিত্রের ওপর ভিত্তি করেই গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কানাডা-নিউজিল্যান্ডের ম্যাচে ফিক্সিং হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
তথ্যচিত্রে দাবি করা হয়েছে, কানাডার ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন বা দল নির্বাচনে প্রভাব রয়েছে বিশ্নোই গোষ্ঠীর। কুখ্যাত এই গোষ্ঠীর পছন্দের ব্যক্তিদের হাতেই থাকে কানাডা ক্রিকেটের ক্ষমতা। দলে কোন ক্রিকেটাররা জায়গা পাবেন, কাকে বাদ দিতে হবে সেসব কিছুই বলে দেয় বিশ্নোই গোষ্ঠী।
কানাডা ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেছেন, 'ইংল্যান্ডের সারের একটি হোটেলে একটি বৈঠক হয়েছিল। সেখানে একজনকে সরাসরি বলা হয়েছিল, কোন ক্রিকেটারকে দলে রাখতে হবে। কাদের কোনো ভাবেই দল থেকে বাদ দেওয়া যাবে না। কথামতো সবকিছু না হলে তাকে বিপদে পড়তে হবে। স্বাভাবিক ভাবেই বিষয়টা বেশ ভয়ের ছিল। ওই ঘটনার পর জাতীয় দলের কয়েক জন ক্রিকেটারের সঙ্গে কথা বলতেও তিনি ভয় পেতেন।'
সেই ব্যক্তি আরও বলেছেন, 'কানাডার ক্রিকেট বোর্ডের কোন পদে কে থাকবেন বা দলের কোন ক্রিকেটারদের প্রতি আলাদা খেয়াল রাখতে হবে, সবই বলে দেওয়া হয়।'
তথ্যচিত্রে দাবি করা হয়েছে, কয়েক জন ক্রিকেটারের দেখভাল ঠিকমতো না হওয়ায় কানাডার জাতীয় দলের এক সদস্যকে হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল। ওই ঘটনার পর জাতীয় দলের কয়েক জন ক্রিকেটার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেন। তারা কানাডা পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চান।
বিশ্নোই গোষ্ঠীর নির্দেশ না মানার অভিযোগে এক ক্রিকেটকর্তার বাড়ি লক্ষ্য করে গুলিও চালানো হয়। তাকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়। ওই ব্যক্তি আরও বলেছেন, 'ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িতরা সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা নন। ভয়ের কোনো ব্যাপার হলে তারাও ভয় পান। হতাশা, অবসাদের শিকার হন। প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলতে সাহস পান না।'
এ জাতীয় আরো খবর..