৫ শর্তে আটকে আছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-২৬, | ২০:৪১:৩৯ |

যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের ৫৮তম দিনে কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা আরও কমে এসেছে। প্রায় দুই মাস ধরে চলা এই সংঘাত বন্ধে আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে, কারণ তেহরান ও ওয়াশিংটন—উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের ইসলামাবাদ সফর বাতিল করেছেন, যা শান্তি প্রচেষ্টায় বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সপ্তাহান্তে পাকিস্তান ত্যাগ করেন। সেখানে তিনি মধ্যস্থতাকারীদের কাছে সংঘাত নিরসনের একটি সম্ভাব্য কাঠামো উপস্থাপন করেছিলেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরান থেকে একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব ওয়াশিংটন পেয়েছে। তবে সেটি ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই সংঘাতের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়ছে। জ্বালানি তেলের দাম কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা মুদ্রাস্ফীতি বাড়াচ্ছে এবং বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হলেও বেশ কিছু মৌলিক শর্তে দুপক্ষের মতপার্থক্য রয়েছে।

স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ানো পাঁচ শর্ত তুলে ধরা হলো:

পারমাণবিক কর্মসূচি

ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করে দিক যুক্তরাষ্ট্র এমনটাই চায়। তবে তেহরান তাদের দাবিতে রাজি নয়। তাদের ভাষ্য, পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে যেকোনো ধরনের বিধিনিষেধ শুধু নির্দিষ্ট কয়েক বছরের জন্য হতে পারে, স্থায়ীভাবে নয়।

ইউরেনিয়াম মজুতকরণ

ইরানের কাছে বর্তমানে প্রায় ৪০০ কেজি (৮৮০ পাউন্ড) উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত রয়েছে। ট্রাম্প চান, এই ইউরেনিয়ামের পুরোটা যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে থাকবে। তবে তেহরান এ প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছে।

হরমুজ প্রণালি ও বন্দর অবরোধ

ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। অন্যদিকে ট্রাম্পের ভাষ্য, চূড়ান্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া হবে না।

আটকে পড়া অর্থ

একটি দীর্ঘস্থায়ী চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও বিদেশে আটকা পড়ে থাকা প্রায় ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলার অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ

শান্তি আলোচনায় ইরান বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। দেশটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তাদের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার বিনিময়ে দেশ দুটিকে দিতে হবে প্রায় ২৭ হাজার কোটি (২৭০ বিলিয়ন) ডলার ক্ষতিপূরণ।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..