হরমুজ প্রণালি এখন সম্পূর্ণভাবে ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হাজি বাবাই। সম্প্রতি মেহের নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে যাতায়াতের জন্য এখন থেকে ইরানের জাতীয় মুদ্রা ‘রিয়ালে’ টোল পরিশোধ করতে হবে।
হাজি বাবাই স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের পার্লামেন্টের ২৫০ জন সদস্য সর্বসম্মতভাবে এই পরিকল্পনা সমর্থন করেছেন এবং সর্বোচ্চ নেতৃত্বের নির্দেশনা অনুযায়ী এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়ে কোনো পরিস্থিতিতেই কারো সাথে কোনো আপস করা হবে না।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানের তেল রপ্তানি প্রতিদিন ১৬ লাখ ব্যারেল ছাড়িয়ে গেছে উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার দাবি করেন, ইরানের তেল এখন কার্যত নিষেধাজ্ঞামুক্ত হয়ে পড়েছে। তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান, ইরানি জাতি তাদের দাবির প্রশ্নে এক ইঞ্চিও পিছু হটবে না।
উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই জলপথটি পুনরায় উন্মুক্ত করা আমেরিকার অন্যতম প্রধান দাবি, যা গত সপ্তাহে ইরানের সাথে স্বাক্ষরিত দুই সপ্তাহের শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যা আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের জয়লাভের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে তারা প্রণালী থেকে মাইন অপসারণের প্রস্তুতি শুরু করেছেন এবং তাদের দুটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার সেখানে অভিযান পরিচালনা করছে।
তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার প্রতিবাদে প্রণালিটি বন্ধ করে দেওয়া ইরান ওই এলাকায় মার্কিন রণতরীর উপস্থিতির দাবি অস্বীকার করেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
এ জাতীয় আরো খবর..