প্লাস্টিক প্যাকেজিংয়ের আকাশচুম্বী দামের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্ট্রিট ফুড বিক্রেতারা বর্তমানে এক কঠিন সময় পার করছেন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর সুফল পেতে আরো অনেক সময় লাগবে। ফলে ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের লাখ লাখ ক্ষুদ্র বিক্রেতা এখন চড়া দামে প্লাস্টিক শিট, ব্যাগ ও বোতল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
প্লাস্টিক তৈরির প্রধান উপাদান নাফথা, যা অপরিশোধিত জ্বালানি তেল থেকে তৈরি হয়। বছরের শুরু থেকে এ উপাদানের দাম তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে। প্রায় ৩৭-৫৭ শতাংশ পর্যন্ত।
ফলে প্লাস্টিকের ব্যাগ, পানির বোতল ও কাপ তৈরির কাঁচামাল পলিইথিলিনের দাম প্রায় ৩৭-৫৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এশিয়ার দেশগুলো তাদের প্রয়োজনীয় নাফথার একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। ফলে ওই অঞ্চলের অস্থিরতা সরাসরি এশিয়ার সরবরাহ ব্যবস্থায় আঘাত হেনেছে।
এ পরিস্থিতির কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভার এক পিঠা বিক্রেতা জানান, তার ব্যবহৃত প্লাস্টিক প্যাকেটের দাম আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। বড় কোম্পানিগুলো আগে থেকেই এসব পণ্য মজুদ করে রাখলেও ক্ষুদ্র বিক্রেতারা তা পারছেন না। ফলে তাদের অনেক বেশি দামে এসব পণ্য সংগ্রহ করতে হচ্ছে। ভিয়েতনামের স্যান্ডউইচ বিক্রেতা ও থাইল্যান্ডের মাংস বিক্রেতারাও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। সেখানে পানির বোতল থেকে শুরু করে সাধারণ পলিথিনের দামও রাতারাতি বেড়ে গেছে।
প্যাকেজিংয়ের খরচ বাড়লেও অনেক বিক্রেতা তাদের খাবারের দাম বাড়াতে সাহস পাচ্ছেন না। তারা মনে করছেন, দাম বাড়ালে সাধারণ ক্রেতারা কেনা কমিয়ে দেবেন। ব্যাংকক ও হো চি মিন সিটির অনেক বিক্রেতা জানান, ক্রেতাদের সমালোচনার ভয়ে তারা লোকসান দিয়ে হলেও আগের দামেই খাবার বিক্রি করছেন। কেউ কেউ মুনাফার পরিমাণ কমিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও ভোক্তা পর্যায়ে প্লাস্টিক পণ্যের দাম কমতে আরো কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। ততদিন এ ক্ষুদ্র বিক্রেতাদের চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়েই দিন পার করতে হবে।
এ জাতীয় আরো খবর..