চীনের তামা আমদানি ১৫ বছরের সর্বনিম্নে

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-১১, | ১৯:৫২:৫১ |
আন্তর্জাতিক বাজারে তামার দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় আমদানিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বিশ্বের শীর্ষ ব্যবহারকারী দেশ চীন।

১৫ বছরের মধ্যে দেশটিতে পরিশোধিত তামা আমদানি এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। মূলত বিশ্ববাজারে দামের ওপর চীনের ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রণ ও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধির কারণেই এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে চীন এখন নিজেই তামা রফতানির দিকে ঝুঁকছে, যা বৈশ্বিক ধাতব বাজারে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। খবর রয়টার্স।

সম্প্রতি প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ব্যুরো অব মেটাল স্ট্যাটিসটিকসের তথ্যানুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে চীনে পরিশোধিত তামার নিট আমদানি কমে ১ লাখ ২৫ হাজার ৩৫০ টনে দাঁড়িয়েছে। ২০১১ সালের এপ্রিলের পর এটিই এক মাসে সর্বনিম্ন আমদানির রেকর্ড। গত জানুয়ারিতে লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) তামার দাম টনপ্রতি রেকর্ড ১৪ হাজার ৫২৭ ডলারে পৌঁছার পরই চীনা ক্রেতারা পিছু হটতে শুরু করেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পুরো বৈশ্বিক বাজারে।

চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে চীনের তামা আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে। আমদানির এ নিম্নমুখী প্রবণতার বিপরীতে চীনের নিজস্ব কারখানা বা স্মেল্টারগুলো থেকে তামা রফতানির পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়েছে। গত বছরের প্রথম দুই মাসে যেখানে চীন মাত্র ৪৯ হাজার টন তামা রফতানি করেছিল, চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার টনে। ফলে দুই দশকের মধ্যে বছরের শুরুতে তামা আমদানিতে সবচেয়ে বড় ধীরগতি দেখল চীন।

বিশ্লেষকদের মতে, চীন এখন তামার জন্য বাইরের দেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে নিজের দেশে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে জোর দিচ্ছে। গত বছর দেশটিতে পরিশোধিত তামার উৎপাদন ৯ শতাংশ বেড়েছে। নিজস্ব উৎপাদন বেশি হওয়ায় এবং স্থানীয় গুদামগুলোয় পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও চীনকে আর বাড়তি চাপে পড়তে হচ্ছে না। সাংহাই ফিউচার এক্সচেঞ্জে বর্তমানে তামার মজুদ গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি, যা আন্তর্জাতিক বাজারে তামার দাম নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখছে।

আগে যেখানে দাম বাড়লেও চীন আমদানিতে বাধ্য ছিল, এখন তারা সে কৌশল থেকে সরে এসেছে। এতে পশ্চিমা দেশগুলোর অনেক তামা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এখন প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীন যেভাবে নিজে উৎপাদন বাড়িয়ে বিশ্ববাজারে রফতানি করছে, তাতে আগামী দিনে তামার বাজারদর নির্ধারণে বেইজিংয়ের প্রভাব আরো বাড়বে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..