মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি বিশ্বজুড়ে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এলেও আন্তর্জাতিক বাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সংঘাতের ফলে এ খাতের যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর আগের মতো আস্থা রাখতে পারছে না আমদানিকারক দেশগুলো। এতে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলো জ্বালানির নির্ভরতা ও দাম নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। খবর রয়টার্স।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা শুরুর পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। ফলে বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম এক লাফে ৮০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে যায়। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এ সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এ পথ বন্ধ হওয়ায় জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়, যা বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি করে।
ইন্টারন্যাশনাল গ্যাস ইউনিয়নের (আইজিইউ) মহাসচিব মেনেলাওস ইদ্রিওস এ পরিস্থিতিকে কেবল সরবরাহের অভাব বলতে নারাজ। তার মতে, এটি মূলত ‘সাপ্লাই চেইন’ বা সরবরাহ ব্যবস্থার সংকট। তিনি জানান, বিশ্বে পর্যাপ্ত গ্যাস থাকলেও তা পরিবহনে বিশেষায়িত জাহাজ ও নির্দিষ্ট রুট প্রয়োজন হয়। যখন কোনো সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ হয়ে যায়, তখন সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। এমন পরিস্থিতিতে ধনী দেশগুলো বেশি দাম দিয়ে জ্বালানি কিনতে পারলেও বিপাকে পড়ে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো।
এশিয়ার অনেক দেশ কয়লার বিকল্প ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়াতে শুরু করেছিল। কিন্তু গত চার বছরে এ দেশগুলো দ্বিতীয়বারের মতো এমন সংকটের মুখে পড়ল। এর আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ও এলএনজির দাম আকাশচুম্বী হয়েছিল। বারবার এমন অস্থিতিশীলতায় অনেক দেশ এখন তাদের পরিকল্পনা বদলাতে শুরু করেছে।
যেমন ভিয়েতনামের একটি প্রতিষ্ঠান বিশাল এক এলএনজি বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা বাতিল করে এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকেছে। তাদের মতে, আমদানীকৃত গ্যাসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
এ সংঘাতের ফলে কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি উৎপাদক দেশগুলোর ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে। কাতার ৩০ বছর ধরে সঠিক সময়ে জ্বালানি সরবরাহে বিশ্বের সেরা উদাহরণ ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এখন তাদের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি মেরামত করে আগের অবস্থায় ফিরতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি ও সরবরাহ সীমাবদ্ধতার কারণে যুদ্ধবিরতি হলেও এলএনজির বাজার দ্রুত স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা কম।
এ জাতীয় আরো খবর..