জাপানের রাস্তার এক চিরচেনা দৃশ্য হলো সারি সারি রঙিন ভেন্ডিং মেশিন।
তবে সময়ের বিবর্তন ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সে ঐতিহ্যে বড় ধরনের চিড় ধরতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, জাপানে কোমল পানীয়র ভেন্ডিং মেশিনের সংখ্যা ৩০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ২০ লাখের নিচে নেমে এসেছে। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জাপানে ভেন্ডিং মেশিনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১৯ লাখে। ১৯৯৫ সাল থেকে হিসাব রাখা শুরুর পর এটিই সর্বনিম্ন সংখ্যা।
এক বছরেই প্রায় ৯০ হাজার মেশিন সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তথ্য বলছে, ২০১৪ সালে জাপানে ভেন্ডিং মেশিনের সংখ্যা ছিল তুঙ্গে। কিন্তু এক দশকে সে সংখ্যা থেকে বর্তমান পরিস্থিতি প্রায় ২০ শতাংশ নিচে নেমে গেছে। সংশ্লিষ্ট বাজার গবেষণা সংস্থাগুলোর মতে, কোমল পানীয়ের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ ভোক্তাদের এ মেশিনগুলো থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।
খুচরা বাজারে প্রতিযোগিতার কথা উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুপারমার্কেট বা ড্রাগস্টোরগুলোয় পানীয়ের ওপর আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট পাওয়া গেলেও ভেন্ডিং মেশিনে দাম থাকে তুলনামূলক অনেক বেশি। এছাড়া মেশিনগুলোয় পণ্য সরবরাহ ও বিতরণে যে বিপুল পরিমাণ লোকবল এবং পরিবহন খরচ প্রয়োজন, তা এখন কোম্পানিগুলোর জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একসময় ২৪ ঘণ্টা সেবা দেয়ার কারণে ভেন্ডিং মেশিন অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসার মাধ্যম ছিল, কিন্তু এটি তার আবেদন হারিয়ে ফেলছে। এদিকে বিক্রিতে ভাটা পড়ায় জাপানের বড় পানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসায়িক কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের পথে হাঁটছে।
কোকা-কোলা বটলার্স জাপান ও ডাইডো গ্রুপ হোল্ডিংসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এরই মধ্যে বড় ধরনের ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বলে জানিয়েছে। মুনাফা টিকিয়ে রাখতে কোম্পানিগুলো লোকসানে থাকা ইউনিট সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেমন কোকা-কোলা বটলার্স জাপান কয়েক বছরে মেশিনের সংখ্যা সাত লাখ থেকে কমিয়ে সাড়ে ছয় লাখে নামিয়ে এনেছে। ডাইডো গ্রুপ আরো ২০ হাজার মেশিন কমানোর পরিকল্পনা করছে।
তবে মেশিনের সংখ্যা কমলেও বিদেশী পর্যটকদের কাছে এগুলো দারুণ জনপ্রিয়। কিন্তু ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও স্মার্ট শপিংয়ের যুগে জাপানের ‘ভেন্ডিং কালচার’ এখন এক কঠিন অস্তিত্বের সংকটে দাঁড়িয়ে। —খবর জাপান টাইমস
এ জাতীয় আরো খবর..