দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সম্প্রতি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
কিন্তু এক মাসের বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে চলা যুদ্ধের জেরে এরই মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতায় চলতি বছর বিভিন্ন অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে বিশ্বব্যাংক। খবর আনাদোলু।
বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের সরাসরি প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান অঞ্চলের অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান বাদে পুরো অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালের ৪ শতাংশ থেকে কমে ২০২৬ সালে মাত্র ১ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। এটি বিশ্বব্যাংকের গত জানুয়ারির পূর্বাভাসের তুলনায় ২ দশমিক ৪ শতাংশ কম। যুদ্ধের কারণে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ধকল সইতে হবে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশ ও ইরাককে। জিসিসি দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে এসব দেশের গড় প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৪ শতাংশ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও ২০২৬ সালে তা কমে ১ দশমিক ৩ শতাংশে নামতে পারে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস হওয়ার ফলে বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা ২০২৬ সালের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে ম্লান করে দিচ্ছে।
ইউরোপ ও এশিয়ার ওপর প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যের গত এক মাসের আগুনের আঁচ লেগেছে ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোয়ও। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি ২০২৬ সালে ২ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষ করে উচ্চ জ্বালানি খরচের কারণে রাশিয়ার প্রবৃদ্ধি কমে দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়াতে পারে।
অন্যদিকে পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও মন্দার সুর শোনা যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, এ অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালের ৫ শতাংশ থেকে কমে ২০২৬ সালে ৪ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনের প্রবৃদ্ধিও ২০২৫ সালের ৫ শতাংশ থেকে কমে ২০২৬ সালে ৪ দশমিক ২ শতাংশে নামার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
এ জাতীয় আরো খবর..