বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে চান মার্গারিটা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-১১, | ১৯:০৩:৩৪ |
বিশ্ব জিমন্যাস্টিকসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অ্যাথলেট মার্গারিটা মামুন। মাত্র এক বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে প্রথমবার বাংলাদেশে পা রেখেছিলেন তিনি। এরপর বাবা ও স্বামীর সঙ্গে আরও কয়েকবার এ দেশে এলেও, সম্প্রতি লাল-সবুজের এই দেশে তাঁর আগমন ঘটেছে এক বন্ধুর সঙ্গে, একান্তই ব্যক্তিগত সফরে।

মার্গারিটার বাবা আবদুল্লাহ আল মামুনের জন্ম ও বেড়ে ওঠা রাজশাহীর দুর্গাপুরে। বাবার স্বপ্ন ছিল মেয়ে নিজভূমের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করুক। আশায় বুক বেঁধে মার্গারিটার দশ বছর বয়সে এসেছিলেন বাংলাদেশে। ছুটে গিয়েছিলেন ফেডারেশনে। তবে ফেডারেশন স্পষ্ট বুঝিয়ে দেয় নিজেদের সীমাবদ্ধতা। আশার বেলুন চুপসে যাওয়ায় ফিরে যান রাশিয়া। নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে ২০১৬ সালে ব্রাজিলের রিও অলিম্পিকে স্বর্ণ জেতেন মার্গারিটা। সেই কীর্তির ১০ বছর পর আবারও বাংলাদেশে ফিরলেন তিনি।



বর্তমানে ঢাকাতে অবস্থান করছেন মার্গারিটা। তার সাংবাদিক বন্ধু বাংলাদেশ, এদেশের দেশীয় খেলা, মেয়েদের স্পোর্টসে অংশগ্রহণ, সুযোগ-সুবিধা নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি তৈরির জন্য এসেছেন। তার সঙ্গী হিসেবে এসেছেন মার্গারিটা। রাজধানীতে অবস্থানকালে টি-স্পোর্টসে নিজের জীবনের পাঠ, ঘটনা এবং আসার মূল উদ্দেশ্য জানান।

রাশিয়ায় জন্মগ্রহণ করা মার্গারিটা বলেন, ‘আমি আমার সাংবাদিক বন্ধুর সঙ্গে এখানে এসেছি। সে বাংলাদেশ অর্থাৎ আমার সেকেন্ড হোমল্যান্ড নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস, খেলাধুলা, বিশেষ করে মেয়েদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ এবং সুযোগ-সুবিধা অর্থাৎ যা কিছু আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ—সেগুলো নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি বানাবে।’

২০১৬ সালে রিদমিক জিমন্যাস্টিকসে গোল্ড জেতার ঠিক দুইদিন পরই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন মার্গারিটার বাবা। মৃত্যুর আগে মেয়েকে নিয়ে তিনি যে স্বপ্ন দেখেছেন, তা দেখে যেতে পেরেছেন আবদুল্লাহ।

মার্গারিটা বলেন, ‘শৈশব এবং কৌশোরে আমি অনেকবার বাংলাদেশি এসেছি। আসার পর এক-দুই মাস করে থেকেছি। বাবা সব সময় বাংলাদেশ নিয়ে গর্ব করতেন। তিনি সবসময় বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে বলতেন। আমাকে নিয়েও গর্ব করতেন। বাবা অলিম্পিকে আমার খেলা দেখেছেন এবং স্বর্ণপদক ধরে দেখেছেন। এটা নিয়ে গর্ববোধ করি।’

মার্গারিটার জন্ম রাশিয়াতে হলেও বাংলাদেশ নিয়ে তার কৌতূহল কম নয়। বাবার কাছ থেকে জেনেছেন এ দেশের কালচারাল ফুড সম্পর্কে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রায় সকল ধরণের খাবার আমার ভালো লাগে। বিশেষ করে পরোটা। আমি ভাত পছন্দ করি। এক কথায় এদেশের সব ধরনের খাবার পছন্দ আমার। হয়তো নামগুলো ঠিকঠাক জানি না।’

এখন পুরোদস্তুর কোচ বনে গেছেন মার্গারিটা। পাশাপাশি বন্ধুর সঙ্গে কাজ করছেন ডকুমেন্টারিতে। তার লক্ষ্য বাংলাদেশের জন্য কিছু করা। তিনি জানান, অনেক প্রতিষ্ঠান যেভাবে তাকে গ্রহণ করেছে, তাতে মুগ্ধ তিনি। ঢাকায় অবস্থানকালে এনএসসি থেকে মহিলা ক্রীড়া সংস্থা এবং ঢাকার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজসহ নানা জায়গা ঘুরে দেখছেন মার্গারিটা। চেষ্টা করছেন এদেশের ক্রীড়া এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে। 

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..