ক্রিকেটের বিশ্বায়নে আরও একধাপ, আইসিসি থেকে আসছে নতুন সিদ্ধান্ত

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-১০, | ২২:৪৮:৪৮ |
ক্রিকেটের বিশ্বায়নে আরও একধাপ এগোতে চাইছে আইসিসি। ২০ দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর ১২ দলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ হতে চলেছে। এখন ৯টি দল নিয়ে চলে টেস্ট বিশ্বকাপ। তবে ২০২৭-২৯ সার্কেলের টেস্ট বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারে ১২ দল। তাছাড়াও ২০২৮ সালের অলিম্পিকের যোগ্যতা অর্জনের পদ্ধতিও কয়েক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত করে ফেলতে চাইছে আইসিসি।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা যায় যে, ২০২৬ সালের প্রথম ত্রৈমাসিক বৈঠক দোহায় হওয়ার কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে তা স্থগিত করা হয়। পরিবর্তে একটি অনলাইন বৈঠক হলেও সেখানে বড় কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে এপ্রিল মাসেই বোর্ড সদস্যরা আবারও মুখোমুখি বৈঠকে বসার সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলি অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির পাশাপাশি টেস্ট ক্রিকেটের প্রসার আরও বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে আইসিসি। সেই লক্ষ্যেই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পরিধি বাড়িয়ে ১২টি দল নিয়ে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে, আইসিসি’র সব পূর্ণ সদস্য দেশই টেস্ট বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। বর্তমানে আফগানিস্তান, জিম্বাবুয়ে এবং আয়ারল্যান্ড বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাইরে রয়েছে। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে এই দলগুলোও সমান সুযোগ পাবে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার। জানা যায়, আইসিসি’র আসন্ন ত্রৈমাসিক বৈঠকেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

চিফ এক্সিকিউটিভস কমিটি (সিইসি) ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাবে সবুজ সংকেত দিয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও কিছু প্রভাবশালী দেশ এই পরিবর্তন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। তবে আইসিসির কর্তারা মনে করছেন, ক্রিকেটের মান উন্নত করতে টেস্ট ক্রিকেটের কোনও বিকল্প নেই। তাই পূর্ণ সদস্য সব দেশকেই যথেষ্ট পরিমাণ লাল বলের ক্রিকেট খেলার সুযোগ দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন অনেকে। আফগানিস্তান, জিম্বাবুয়ে এবং আয়ারল্যান্ড বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে না থাকায় বছরে খুব বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ পায় না।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দেশগুলো এই তিন দেশের সঙ্গে টেস্ট খেলতে তেমন আগ্রহ দেখায় না। সারা বছরের ঠাসা সূচির কথা ভেবে ক্রিকেটারদের উপর চাপ বাড়াতে চায় না। তাই এই তিন দেশকেও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলে সমস্যা থাকবে না। ২০২৭ সালের জুন থেকে যে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হবে, তা হতে পারে ১২ দলের। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপকে দু’টি বিভাগে সম্ভবত ভাগ করা হবে না। এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে একাধিক পূর্ণ সদস্য দেশ। সদস্য হিসাবে সমান মর্যাদাপূর্ণ হওয়ার পরও বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা।

তাছাড়াও আসন্ন বৈঠকে ২০২৮ অলিম্পিকে যোগ্যতা অর্জনের পদ্ধতিও চূড়ান্ত হয়ে যেতে পারে। অলিম্পিকে হবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট। পুরুষ এবং মহিলা বিভাগে ছয় দল খেলার সুযোগ পাবে। অর্থাৎ আইসিসি’র পূর্ণ সদস্য হিসাবে সমস্ত দেশ খেলতে পারবে না ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’। প্রতিটি অঞ্চলের (এশিয়া, ওশেনিয়া, ইউরোপ এবং আফ্রিকা) শীর্ষ দল সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করবে। আয়োজক হিসাবে আমেরিকার খেলা নিশ্চিত। ষষ্ঠ দলকে বেছে নেওয়ার জন্য ২০২৭ সালে যোগ্যতা অর্জন প্রতিযোগিতা আয়োজন করবে আইসিসি। পুরুষদের মতোই মহিলাদের ক্ষেত্রেও যোগ্যতা অর্জনের একই কাঠামো অনুসরণ করা হবে। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট অঞ্চলভিত্তিক চ্যাম্পিয়ন দল ও বাছাইপর্বের মাধ্যমেই অলিম্পিকের ছ’টি স্থান নির্ধারিত হবে।

এর আগে পরিকল্পনা ছিল আসন্ন মহিলাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই অলিম্পিকের জন্য দল নির্বাচন করা হবে। তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসে আলাদা যোগ্যতা অর্জন পদ্ধতি চালু করার দিকেই এগোচ্ছে আইসিসি। আইসিসি’র আশা, জুলাইয়ে স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) আগেই এই সমস্ত প্রস্তাব চূড়ান্ত করা যাবে। এর আগে চলতি মাসের শেষের দিকে পুনর্নির্ধারিত বোর্ড বৈঠক ব্যাংককে হতে পারে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..