✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-১০, | ১৩:০৭:০৬ |মোটরসাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এর ব্রেক সিস্টেম। চালকের নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা রোধে ব্রেকের সঠিক কার্যকারিতার কোনো বিকল্প নেই। অনেক সময় অবহেলার কারণে ব্রেক সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই নিয়মিত বিরতিতে বাইকের ব্রেকের যত্ন নেওয়া জরুরি।
ব্রেক প্যাড ও ড্রাম পরীক্ষা
আধুনিক বাইকগুলোয় সাধারণত ডিস্ক ব্রেক বা ড্রাম ব্রেক থাকে। ডিস্ক ব্রেকের ক্ষেত্রে ব্রেক প্যাড নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত। প্যাড ক্ষয় হয়ে গেলে মেটালের সঙ্গে ঘর্ষণ লেগে ডিস্ক প্লেট নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সাধারণত প্রতি ২ থেকে ৩ হাজার কিলোমিটার অন্তর ব্রেক প্যাড পরিষ্কার করা ভালো। অন্যদিকে ড্রাম ব্রেকের ক্ষেত্রে ব্রেক সুনির্দিষ্ট সময় পরপর পরিবর্তন করতে হয়। ব্রেক লিভার চাপলে যদি কিড়কিড় শব্দ হয়, তবে বুঝতে হবে ব্রেক শু বা প্যাড পরিবর্তনের সময় হয়েছে।
ব্রেক ফ্লুইড পরিবর্তন
ডিস্ক ব্রেকের কার্যকারিতা নির্ভর করে ব্রেক ফ্লুইডের ওপর। মাস্টার সিলিন্ডারে ব্রেক অয়েলের পরিমাণ ঠিক আছে কি না, তা নিয়মিত দেখা উচিত। ফ্লুইডের রং কালচে হয়ে গেলে তা বদলে ফেলা জরুরি। সাধারণত প্রতি দুই বছর বা নির্দিষ্ট কিলোমিটার পরপর ব্রেক ফ্লুইড পরিবর্তন করা নিরাপদ। ভালো মানের ডট-৩ বা ডট-৪ গ্রেডের ব্রেক ফ্লুইড ব্যবহার করা বাইকের জন্য উপকারী।
ডিস্ক ও ব্রেক লাইনের যত্ন
বাইকের ব্রেক ডিস্কে কাদা বা ধুলোবালি জমলে ব্রেকিং ক্ষমতা কমে যায়। তাই বাইক ধোয়ার সময় ডিস্কটি ভালোভাবে পরিষ্কার করা উচিত। ব্রেক হোস পাইপ বা লাইনে কোনো লিক আছে কি না, তাও নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। লিক থাকলে ব্রেক লিভার চাপলেও চাকা ঠিকমতো থামবে না। অনেক সময় ব্রেক লাইনে বাতাস ঢুকে যায়, একে ‘স্পঞ্জি ব্রেক’ বলা হয়। এমনটি হলে অভিজ্ঞ মেকানিকের মাধ্যমে বাতাস বের করে দিতে হবে।
দুর্ঘটনা রোধে সঠিক ব্যবহার
দুর্ঘটনা এড়াতে শুধু পেছনের ব্রেকের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। সামনের ও পেছনের ব্রেকের সমন্বিত ব্যবহার বাইকের গতি দ্রুত ও নিরাপদে কমিয়ে আনে। বিশেষ করে ভেজা বা পিচ্ছিল রাস্তায় হঠাৎ জোরে ব্রেক চাপা বিপজ্জনক। বর্তমানে অনেক বাইকে অ্যান্টি লক ব্রেকিং সিস্টেম (এবিএস) থাকে, যা চাকা লক হওয়া থেকে রক্ষা করে। বাইকের ব্রেক সিস্টেমটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করলে তা কেবল দীর্ঘস্থায়ী হবে না, বরং রাস্তায় আপনার জীবনও নিরাপদ রাখবে।