লাগামহীন বাজার, রমজানের চেয়েও দাম বেশি

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-১০, | ১২:৪৯:৫৯ |

ঈদুল ফিতরের আগে অধিকাংশ পণ্যের দাম লাগামহীন হয়ে পড়ে। ঈদের পর ২১ দিন পার হয়েছে। তার পরও কমছে না পণ্যের দাম। কাকরোল, বেগুন, পটোল, করলা, শজনের ডাঁটাসহ অধিকাংশ সবজির দাম ১০০ টাকার বেশি। সোনালি মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ১০০ টাকা বেড়ে ৪৩০ থেকে ৪৪০ টাকায় ঠেকেছে। সরকার ১২ কেজির এলপি গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়ালেও অতিরিক্ত ২৭৫ টাকা ছাড়া জোটে না ভোক্তাদের কপালে। সিন্ডিকেট করে প্যাকেটজাত ৫ লিটারের সয়াবিন তেল বাজার থেকে গায়েব হয়েছে। বাড়তি টাকা ছাড়া পাওয়া যায় না খোলা সয়াবিন তেল।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজার, হাতিরপুলসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। 

চলতি বছরের শুরুতে দেশে এলপি গ্যাসের দাম লাগামহীন হয়ে পড়ে। সরকার নির্ধারিত মূল্যে পাওয়া যায়নি গ্যাস। ১ হাজার ৩৫৬ টাকার সিলিন্ডার ৩ থেকে ৪ হাজার টাকায় ভোক্তাদের কিনতে হয়েছে। এ নিয়ে দেশে হইচই পড়ে। সরকার সর্বশেষ গত ২ এপ্রিল ভোক্তাপর্যায়ে ১২ কেজির তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করে। কিন্তু এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও সেই দামে কোথাও তা মিলছে না। অতিরিক্ত ২৫০ থেকে ২৭৫ টাকা গুনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। 

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে তা ২ হাজার টাকায় বিক্রি করেন খুচরা বিক্রেতারা। এ ব্যাপারে খিলগাঁও এলাকার আলী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কামাল শেখ বলেন, ‘সরকার দাম বাড়িয়েছে। সেটা কোম্পানির পকেটে যাচ্ছে। আমাদের বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৮০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। কিন্তু কম টাকার ডিও নিচ্ছে। তাহলে নির্ধারিত দামে কীভাবে বিক্রি করব? দোকান ভাড়া, গাড়িভাড়া তো আছে। কিছুতো লাভ করতে হবে। তাই ২ হাজার টাকায় তা বিক্রি করতে হচ্ছে।’ অন্য বিক্রেতারাও একই কথা বলেন।

এর আগে ফেব্রুয়ারির শুরুতে ১২ কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৩৫৬ টাকা। এরপর এলপিজির আমদানি শুল্ক কমানোর পর ২৪ ফেব্রুয়ারি দাম সমন্বয় করে ১৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৩৪১ টাকা করা হয়।

রমজান মাসের শুরুতে বেগুন, শসা, লেবুসহ অনেক সবজির দাম বেড়ে যায়। ঈদ ঘনিয়ে আসায় এসব সবজির দাম কিছুটা কমে। কিন্তু গতকাল বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, রমজানের মতোই অধিকাংশ দোকানে কাকরোলের কেজি ২০০ টাকা, বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা, করলা ১২০ টাকা, পটোল ১০০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৭০ থেকে ৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আগের মতোই শসা ও ক্ষীরার কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, দেশি শসা ১০০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৬০, টমেটো ৬০ থেকে ৮০ টাকা টাকায় বিক্রি করা হয়। অন্য সবজিও উচ্চ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। 

মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. জয়সহ অন্য বিক্রেতারা বলেন, ‘ঈদের পর সরবরাহ কম থাকায় দাম চড়ে যায়। তারপর আর কমে না। কাকরোলসহ সব সবজিই আড়তে বেশি দামে কেনা। তাহলে কম দামে কীভাবে বিক্রি করি।’ এ সময় তাজমহল রোডের শাহিন খোকন নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘কাকরোল ২০০ টাকা কেজি! এত দাম। খাব না। কিনব না।’ অন্য ভোক্তারাও বাজার লাগামহীন হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বেসামাল সোনালি মুরগির দাম 
রমজান মাস শুরু হলে অন্য পণ্যের মতো সোনালি মুরগির দামও বেড়ে ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হয়। তারপর আর কমেনি। বাড়তে বাড়তে ১ মাসের ব্যবধানে ১০০ টাকা বেড়েছে। গতকাল বিভিন্ন বাজারে ৪৩০ থেকে ৪৪০ টাকায় বিক্রি হয় বলে বিক্রেতারা জানান। এ ব্যাপারে হাতিরপুল বাজারের মুরগির ব্যবসায়ী রমজান আলী বলেন, ‘বেশি দামে কেনা। তাই কম দামে বিক্রি করা যাচ্ছে না। ৪৩০ থেকে ৪৪০ টাকা। কেন কমছে না দাম? এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ঈদের আগে সরবরাহ বেশি ছিল। কিছু দিন ধরে কমে গেছে। এ জন্য দাম বেশি। সরবরাহ বাড়লে আবার কমতে পারে।’ আগে দেশি মুরগি ৬৫০ থেকে ৬৮০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল তা ৭০০ টাকার কমে মেলেনি। তবে গরু ও খাসির মাংসের কেজি আগের মতোই ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা ও ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা ও ডিমের ডজন ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়। রমজানকে কেন্দ্র করে মাছের দামও বেড়ে যায়। ঈদের পরও কমেনি। রুই ও কাতল মাছের কেজি ৩৬০ থেকে ৬০০ টাকা, কাজলি, ট্যাংরাসহ নদীর অন্যান্য মাছ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, তেলাপিয়া মাছ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি, পাঙাশ ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

উধাও ৫ লিটারের সয়াবিন তেল
রমজানের শুরু থেকেই ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট শুরু হয়। ঈদ শেষেও তা দূর হচ্ছে না। ১ লিটার বোতলজাত তেল ১৯৫ টাকায় মিললেও ৫ লিটারের বোতল বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, কোম্পানির লোকেরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর জন্যই আমাদের দিচ্ছে না। এ ব্যাপারে হাতিরপুল বাজারের তাহের স্টোরের আবু তাহের, টাউন হল বাজারের এলবি স্টোরের মো. লুৎফর রহমান, নূর জেনারেল স্টোরের নূরে আলমসহ অন্য খুচরা বিক্রেতারা খবরের কাগজকে বলেন, ‘তীরের কিছু তেল পাওয়া যাচ্ছে। অন্য সব কোম্পানির লোকেরা বলছেন, তেল নেই। তাই দিতে পারছি না। এ জন্য আমাদের দোকানেও নেই। বিক্রি করব কী করে?’ 

তবে পেঁয়াজ ও আলুর মৌসুম হওয়ায় কিছুটা কম দামে বিক্রি করতে দেখা যায়। খুচরা বিক্রেতারা জানান, পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৪০ টাকা, আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা, আদার দাম কমে কেজিতে ১৪০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়। আগের মতোই মিনিকেট ৭০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি, আটাশ ৬০ থেকে ৬৫ টাকা ও মোটা চাল ৫২ থেকে ৫৫ টাকা, মসুরের ডাল ১৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..