প্রযুক্তি খাত

বছরের প্রথম তিন মাসে চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ৮০ হাজার কর্মী

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-০৯, | ১৮:৫৬:১৯ |
বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতে চলছে অস্থিরতা। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই (জানুয়ারি-মার্চ) বিশ্বব্যাপী এ শিল্পে প্রায় ৮০ হাজার কর্মী চাকরি হারিয়েছেন।

সম্প্রতি বড় কোম্পানিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে খরচ কমানোর পথে হাঁটছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্মসংস্থানের ওপর এআইয়ের প্রকৃত প্রভাব বোঝার সময় এখনো আসেনি। খবর নিক্কেই এশিয়া।

২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের চিত্র
বাজার বিশ্লেষণকারী সংস্থা রেশিওনাল এফএক্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মোট ৭৮ হাজার ৫৫৭ জন প্রযুক্তি কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। বিপুলসংখ্যক ছাঁটাইয়ের ঘোষণা, শ্রম বিভাগের নোটিস ও বিভিন্ন জব ট্র্যাকিং সাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

রেশিওনাল এফএক্স বলছে, প্রযুক্তি বিশ্বে মোট ছাঁটাইয়ের ৭৬ দশমিক ৭ শতাংশই ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। এরপর আছে অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া ও সুইডেন।

বিশ্লেষকদের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রায় অর্ধেক বা ৩৭ হাজার ৬৩৮টি ছাঁটাইয়ের পেছনে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এআই বাস্তবায়ন এবং কর্মপ্রবাহের স্বয়ংক্রিয়করণ দায়ী। অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর চেয়ে ‘এআই ভালো কিছু করবে’, এমন প্রত্যাশা থেকেই কোম্পানিগুলো কর্মী কমিয়ে ফেলছে।

এআই কি কেবল অজুহাত?
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আইটি পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কগনিজেন্টের প্রধান এআই কর্মকর্তা বাবাক হোজাত এ পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, অনেক সময় কোম্পানিগুলো যখন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি নিয়োগ দেয় বা ব্যবসায়িক আকার পুনর্গঠন করতে চায়, তখন আর্থিক দিক থেকে এআইকে ‘বলির পাঁঠা’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ অন্যান্য কারণে কর্মী ছাঁটাই করলেও দায় চাপানো হচ্ছে এআইয়ের ওপর।

হোজাত জানান, এআইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত উৎপাদনশীলতা বাড়তে পারে এবং এতে কর্মসংস্থানে পরিবর্তনও আসবে। তবে এমনটা হতে আরো অন্তত ছয় মাস থেকে এক বছর সময় লাগবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন একটি ক্রান্তিকাল বা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এ পরিবর্তনের মুখে কগনিজেন্ট নিজেদের ব্যবসায়িক মডেলেও বড় ধরনের রূপান্তর আনছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির আয়ের একটি বড় অংশ আসে বিজনেস প্রসেসিং আউটসোর্সিং (বিপিও) খাত থেকে।’

তিনি জানান, কোম্পানিটি এখন এমন সব ‘এআই এজেন্ট টুলস’ তৈরি করছে, যা প্রচলিত আউটসোর্সিংয়ের কাজগুলো অনায়াসেই করে ফেলতে পারবে। ফলে আউটসোর্সিং খাতের চাকরিগুলো অদূর ভবিষ্যতে রোবট বা এআই দিয়ে প্রতিস্থাপিত হওয়ার ঝুঁকি আরো বাড়ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানের এ যুগে কর্মীদের নতুন দক্ষতার দিকে নজর দিতে হবে। কারণ এআইয়ের পূর্ণ প্রভাব শুরু হলে কেবল সাধারণ দক্ষতা দিয়ে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..