ডেটা সেন্টারে পানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার নিয়ে চাপে টেক জায়ান্টরা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-০৯, | ১৮:২৮:৫৯ |
ডেটা সেন্টারে পানি ও বিদ্যুতের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে বিনিয়োগকারী ও পরিবেশবাদীদের চাপের মুখে পড়েছে টেক জানায়ন্টরা।

এর মধ্যে আছে অ্যামাজন, মাইক্রোসফট ও গুগলের মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির উত্থানের এ সময়ে ডেটা সেন্টারগুলোর জ্বালানি ও পানির চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় পরিবেশের ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। খবর রয়টার্স।

পরিবেশগত প্রভাব ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র বিরোধিতার মুখে সম্প্রতি গুগল ও অ্যামাজনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বেশকিছু এলাকায় মাল্টিবিলিয়ন ডলারের ডেটা সেন্টার নির্মাণ প্রকল্প বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এসব বিশাল স্থাপনা দৈনন্দিন পানির উৎস এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করবে। এ জনরোষের পর থেকেই কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন বিনিয়োগকারীরা।

বোস্টনভিত্তিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ট্রিলিয়াম অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট এরই মধ্যে গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেটের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দিয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, গুগল ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তাদের কার্বন নিঃসরণ উল্টো ৫১ শতাংশ বেড়েছে। বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, কোম্পানিগুলো তাদের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ ও পানির চাহিদার প্রকৃত চিত্র আড়াল করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের পরিবেশগত ও ব্যবসায়িক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ডেটা সেন্টারগুলো সার্ভার ঠাণ্ডা রাখতে বিপুল পরিমাণ পানির প্রয়োজন হয়, যা এখন উদ্বেগের মূল কেন্দ্রবিন্দু। মর্ডর ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে উত্তর আমেরিকার ডেটা সেন্টারগুলো প্রায় ১ ট্রিলিয়ন লিটার পানি ব্যবহার করেছে, যা নিউইয়র্ক সিটির পুরো এক বছরের পানির চাহিদার সমান। যদিও মেটা, গুগল ও মাইক্রোসফট এখন পানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির কথা বলছে, কিন্তু তাদের দেয়া পরিসংখ্যানে ব্যাপক অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন।

মেটার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৪ সাল পর্যন্ত তাদের পানির ব্যবহার আগের তুলনায় ৫১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গুগল নিজস্ব ও লিজ নেয়া ডেটা সেন্টারের তথ্য দিলেও তৃতীয় পক্ষের পরিচালিত সেন্টারগুলোর তথ্য এড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে অ্যামাজন মোট ব্যবহারের হিসাব না দিয়ে কেবল বিদ্যুতের ইউনিটের অনুপাতে ব্যবহারের তথ্য দিয়েছে।

বিনিয়োগকারীরা বলছেন, পরিবেশগত ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য প্রতিটি এলাকার আলাদা তথ্য থাকা জরুরি। এ বিষয়ে ক্যালভার্ট রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের বিশ্লেষক জেসন কি বলেন, ‘আমরা এখনো স্থানীয় পর্যায়ে পানির ব্যবহার নিয়ে কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে পর্যাপ্ত তথ্য পাচ্ছি না। যদিও টেক জায়ান্টগুলো সম্পদ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তবুও স্বচ্ছ তথ্যের অভাবে তাদের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।’

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..