যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নিশ্চিতে পাকিস্তান কীভাবে সাহায্য করেছিল

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-০৮, | ১৯:৫১:০২ |
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঠিক আগে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পাকিস্তানি সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির আলোচনা খুব দ্রুত এগিয়েছিল।

ইরান-আমেরিকার মধ্যে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। 
সূত্রটি জানায়, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ নেওয়া দলটি ছিল খুবই ছোট একটি পরিসরের, এবং তাদের মধ্যে পরিবেশ ছিল গম্ভীর ও সতর্ক। সংঘাত বন্ধ হওয়ার ব্যাপারে তারা খুব আশাবাদী ছিলেন।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে মধ্যস্থতা করে আসছিল পাকিস্তান।

ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। পাশাপাশি ইসলামাবাদ প্রায়ই তেহরানের সঙ্গে ‘ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক’ উল্লেখ করে থাকে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও পাকিস্তানের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে ঘনিষ্ঠ হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে নিজের ‘প্রিয় ফিল্ড মার্শাল’ বলে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প এও দাবি করেন, আসিম মুনির ইরানকে ‘অন্যদের চেয়ে ভালো বোঝেন’।

তবে সমঝোতা নিশ্চিত ছিল না। মঙ্গলবার রাতে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, গতকাল পর্যন্ত আমরা খুব আশাবাদী ছিলাম যে পরিস্থিতি ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে।

কিন্তু এর মধ্যেই ইসরায়েল গত সোমবার ইরানে হামলা চালায় এবং পাল্টা হিসেবে তেহরান সৌদি আরবে হামলা করে। ফলে পরিস্থিতি আবারও জটিল হয়ে ওঠে।

দার বলেন, পাকিস্তান যতটা সম্ভব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছিল।

তবে সৌদি আরবে ইরানের হামলা নিয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান সেনাপ্রধান আসিম মুনির। তিনি বলেন, সৌদি আরবে হামলা শান্তিপূর্ণ সমাধানের আন্তরিক প্রচেষ্টাকে নষ্ট করে দিয়েছিল। তবে পরে পরিস্থিতি অনুকূলে চলে আসে। 

যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এক্সে একটি পোস্ট দেন। তিনি বলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরালোভাবে এগোচ্ছে এবং অদূর ভবিষ্যতে বাস্তব ফল আসতে পারে। 

তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সময়সীমা দুই সপ্তাহ বাড়ানোর আহ্বান জানান এবং একই সময়ের জন্য ইরানকে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর পোস্টের পর স্থানীয় সময় রাত তিনটার দিকে পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোঘাদাম এক্সে জানান, পরিস্থিতির সংকটময় ও সংবেদনশীল ধাপ থেকে এক ধাপ এগিয়েছে।

এরপর ভোর পাঁচটার কিছু আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তিনি দুই দেশকে আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে বৈঠকে বসার আমন্ত্রণ জানান, যাতে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো যায়।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পরিস্থিতি এখনও ‘খুবই ভঙ্গুর’। দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার ঘাটতি রয়ে গেছে এবং অবস্থানও এখনো কঠোরভাবে বিপরীতমুখী।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..