হামকে অনেক সময় চিকেনপক্সের সঙ্গে তুলনা করা হয়, কিন্তু এটি তার চেয়েও বেশি গুরুতর। এ রোগের জটিলতা মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রথমে শ্বাসতন্ত্রে আক্রমণ করে এবং স্থানীয় লিম্ফ নোডে সংক্রমণ ঘটায়, তারপর সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এজন্য এটি মানুষের শ্বাসতন্ত্র, মস্তিষ্ক ও কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের অন্যান্য অংশকে প্রভাবিত করতে পারে।
হামে ডায়রিয়া বা কানের সংক্রমণের মতো তুলনামূলক হালকা উপসর্গ থাকে। এর কারণে ৬ শতাংশ শিশু নিউমোনিয়ায় ভোগে। অপুষ্ট শিশুদের মধ্যে এ হার আরো বেশি হতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে এটি এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কে ফোলা) ঘটাতে পারে। এছাড়া হাম রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে দেয়, ফলে শিশুরা অন্য রোগে সহজেই আক্রান্ত হয়।
খুব ছোট শিশু, বয়স্ক মানুষ, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল (যেমন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি) তাদের ক্ষেত্রে জটিলতার ঝুঁকি বেশি। বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রের প্রাদুর্ভাবে পাঁচ বছরের নিচের প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে প্রায় একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। নিম্ন আয়ের দেশগুলোয় যেখানে অপুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবার অভাব রয়েছে, সেখানে এ রোগে মৃত্যুহার ৪-১০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ
বেশির ভাগ শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস বড় ফোঁটার মাধ্যমে ছড়ায়, যা কাশি, হাঁচি বা কথা বলার সময় বের হয় এবং কাছাকাছি থাকা কেউ শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু হাম ভিন্ন।
হাম খুব সূক্ষ্ম কণার মাধ্যমে বাতাসে ছড়ায়, যা ধূলিকণার মতো দীর্ঘ সময় বাতাসে ভেসে থাকতে পারে। ফলে সংক্রমিত ব্যক্তি একটি ঘর ছেড়ে যাওয়ার ২ ঘণ্টা পরও সে ঘরে প্রবেশ করলে অন্য কেউ আক্রান্ত হতে পারে। এজন্য হাম পৃথিবীর সবচেয়ে সংক্রামক রোগগুলোর একটি।
একজন হাম আক্রান্ত ব্যক্তি ১২-১৫ জন মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে (যারা টিকা নেয়নি বা আগে আক্রান্ত হয়নি)। তবে দুই ডোজ টিকা প্রায় সম্পূর্ণ সুরক্ষা দেয়।
টিকা নেয়া বা আগে আক্রান্ত হওয়ার মাধ্যমে একবার রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হলে, তা নিজের ও অন্যের জন্য একটি শক্তিশালী সুরক্ষা হিসেবে কাজ করে।
এ জাতীয় আরো খবর..