বিশ্ববাজারে মেমোরি চিপের চাহিদা বাড়ায় দক্ষিণ কোরীয় প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের মুনাফায় বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।
চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কোম্পানিটির পরিচালন মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৫৫ শতাংশ বেড়েছে, যা বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
প্রাথমিক আর্থিক প্রতিবেদনে সম্প্রতি স্যামসাং জানায়, বছরের প্রথম তিন মাসে কোম্পানির পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৫৭ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ওন (প্রায় ৩ হাজার ৭৮০ কোটি ডলার)। গত বছরের প্রথম প্রান্তিকে এ মুনাফার পরিমাণ ছিল মাত্র ৬ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ওন।
প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় কেবল মুনাফাই নয়, বরং আয়ের ক্ষেত্রেও বড় প্রবৃদ্ধির দেখা মিলেছে। প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির মোট আয় ৬৮ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১৩৩ ট্রিলিয়ন ওনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে গত বছরের পুরো সময়ের মোট পরিচালন মুনাফা ছিল ৪৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ওন, যা এবার কেবল প্রথম তিন মাসেই ছাড়িয়ে গেছে কোম্পানিটি। পাশাপাশি আগের প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) তুলনায় পরিচালন মুনাফা বেড়েছে ১৮৫ শতাংশ ও আয় বেড়েছে ৪১ দশমিক ৭ শতাংশ।
বিশ্লেষকরা বলেন, স্যামসাংয়ের এ বিশাল সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা। এআই কম্পিউটিংয়ের জন্য অপরিহার্য হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি (এইচবিএম) চিপের বৈশ্বিক সংকটের কারণে ক্রেতারা চড়া মূল্যে চিপ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশ্বজুড়ে হাতেগোনা কয়েকটি মাত্র কোম্পানি এ উন্নত চিপ উৎপাদন করতে সক্ষম হওয়ায় স্যামসাং বর্তমানে বাজারে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
ব্যবসায়িক ফলাফল ইতিবাচক হলেও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা স্যামসাংয়ের ভবিষ্যৎ ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন বাজার পর্যবেক্ষকরা। ওই অঞ্চলে চলমান সংঘাতের ফলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধির গতি ধীর করে দেয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এটি বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চলতি মাসের শেষ দিকে পূর্ণাঙ্গ আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ হলে বিভিন্ন বিভাগের বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ জাতীয় আরো খবর..