ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ জুলাই অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দলগুলোর ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ক্রিকেটিয় ভাষায় বলেছেন, ‘শুনেন, আপনারা ছয় বলে ১২ রান করেছেন। কিন্তু, এর আগের ৩০০ রান আমরা সবাই মিলে করেছি। সুতরাং আপনারা এমন কথা বলবেন না যাতে দেশবাসী বিভ্রান্ত হয়, যেন জুলাইয়ে আমাদের কোনও কন্ট্রিবিউশনই নাই। যেদিন আবু সাঈদ শহীদ হয়েছিল, সেদিন চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরামও কিন্তু শহীদ হয়েছে। অবদান কারও কম নয়।’
মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাবের (বিধি-৬২) ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ নিয়ে আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
গণভোটের কারিগরি দিক নিয়েও সংসদে প্রশ্ন তুলে পার্থ বলেন, ‘আপনারা গণভোটে চারটি বিষয় দিয়েছেন। কিন্তু, কোনও ভোটার যদি একটি বিষয়ে একমত না হয়, তবে সে কী করবে? হ্যাঁ-তে ভোট দেবে নাকি না-তে? আপনারা তো তাকে বাধ্য করেছেন। সনদের বাকি বিষয়গুলো কেন গণভোটে দিলেন না?’
জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ওপর আমাদের শ্রদ্ধা থাকতে হবে, একইসঙ্গে জুলাইয়ের স্পিরিটকেও তুলে ধরতে হবে। আমরা সবাই মিলে বসে আলাপ করি। কিন্তু কোনও সদস্যের বক্তব্যে যেন জুলাইকে আন্ডারমাইন করা না হয়। আসুন আমরা পজিটিভ কিছু নিয়ে আসি।’
সংবিধান বাতিল বা ছুড়ে ফেলার চেষ্টার সমালোচনা করেন বিজেপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘আমাদের সমস্যা জুলাই নিয়ে নয়, সমস্যা হচ্ছে প্রক্রিয়া নিয়ে। আপনারা যদি সংবিধান ছিঁড়ে ফেলে নতুন করে বানাতে চাইতেন, তবে সেই সময় রেভল্যুশনারি (বিপ্লবী) বা ট্রানজিশনাল সরকার গঠন করলেন না কেন? একটি সাধারণ সরকার গঠন করে, পুরোনো সংবিধানে থেকে আপনারা সংবিধান বাতিল করতে চাচ্ছেন, এটা হয় না।’
সংবিধানকে মুক্তিযুদ্ধের দলিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সংবিধান ছুড়ে ফেলব কেন? এতে এত গাত্রদাহ কেন? আমরা চাইলে তো পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারি। এর জন্য ছুড়ে ফেলার তো দরকার নেই।’
এ জাতীয় আরো খবর..