মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠিয়ে ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় ‘এক-এগারোর’ আলোচিত লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।
বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মঈনউদ্দীন চৌধুরী এ বিষয়ে আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আগামী ৯ এপ্রিল দিন ধার্য করেন। দুদকের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
এদিন দুদকের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, আসামি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও অন্যদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে, অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গের মাধ্যমে অসৎ উদ্দেশ্যে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। তারা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ করে মালয়েশিয়া শ্রমিক রিক্রুটের জন্য এজেন্ট হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। রিক্রুটেড শ্রমিকদের অবৈধভাবে ক্ষতিসাধন করে বিভিন্ন ধাপে বাড়তি অর্থ গ্রহণের অসৎ উদ্দেশ্যে সরকার দলীয় এমপির প্রভাব খাটিয়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করেন। তারা চুক্তিবদ্ধ আইনসঙ্গত পারিশ্রমিক ব্যতীত এবং চুক্তি বহির্ভূত কর্মকাণ্ড করে পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে অবৈধ পারিতোষিক গ্রহণ করেন।
তারা সাত হাজার ১২৪ জন মালয়েশিয়ায় পাঠানো কর্মীর কাছ থেকে পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রতি কর্মীর নিকট থেকে নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণসহ সর্বমোট ১১৯ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
এ ঘটনায় গত ১১ মার্চ আসামি মাসুদসহ অন্যদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২০(বি)১৬১/১৬২/১৬৩/১৬৪/১৬৫(ক)/৪২০/৪০৯/১০৯ ধারা ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা তৎসহ দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ সনের ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে। তিনি জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বাধা সৃষ্টি করতে পারেন। এজন্য সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো বিশেষ প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, সিন্ডিকেট করে অর্থ আত্মসাৎ ও মানবপাচারের অভিযোগে ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্টন থানায় মামলা করেন আফিয়া ওভারসিজের প্রোপাইটর আলতাব খান। ওই মামলায় গত সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার নিজ বাসা থেকে মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
এ জাতীয় আরো খবর..