মাদক নিয়ে ভিডিও প্রচার, কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৩-২৪, | ২১:৪৫:২৩ |
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় মাদক নিয়ে ভিডিও প্রচার করায় মো. দ্বীন ইসলাম নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার শিমরাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

দ্বীন ইসলাম শিমরাইল গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে। ‘তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি’ নামে একটি পেজ পরিচালনা করতেন। মাদকসেবন, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে ভিডিও তৈরি করতেন তিনি।

স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, বেশ কয়েকদিন ধরে তার ওই পেজ থেকে মাদক পাচার নিয়ে ভিডিও ফুটেজ প্রচার করা হচ্ছিলো। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ফেসবুকে তার ওপর হামলা হলে বা তাকে হত্যা করা হলে কারা দায়ী থাকবেন তাদের নাম উল্লেখ করেন দ্বীন ইসলাম।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে দ্বীন ইসলামকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাকে পিটিয়ে কুমিল্লার বাঙ্গরা উপজেলায় একটি নদীর পাড়ে ফেলে রাখা হয়। পরিবারের সদস্যরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯- এ ফোন করে বিষয়টি জানায়। পরে তাকে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

দ্বীন ইসলামের বাবা শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। কয়েকদিন ধরে মাদককারবারিসহ অপরাধীদের বিরুদ্ধে ভিডিও প্রকাশ করায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

এ বিষয়ে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা জানান, কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে সে বিষয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, ‘নিহতের এলাকাভিত্তিক ও নিজেদের গোষ্ঠীর মধ্যে একটা দ্বন্দ্ব ছিলো। এরই জের ধরে হামলা করা হয় বলে জানা গেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দিলে এ বিষয়ে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ জানান, দ্বীন ইসলামকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পেটানো হয়। হত্যাকাণ্ডের শিকার দ্বীন ইসলাম মাদক নিয়ে লেখালেখি করতেন। এ কারণেও তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে। তদন্তের পর আরও বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান এই পুলিশ সুপার।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..