শেষ মুহূর্তের ঈদ কেনাকাটায় ফুটপাত থেকে শপিংমল সর্বত্রই উপচে পড়া ভিড়

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৩-২০, | ১১:২২:০৩ |
ঈদুল ফিতরের জন্য বাড়ি ফেরা মানুষের স্রোতে রাজধানীর রাজপথ ফাঁকা হতে শুরু করলেও, বিপণিবিতানগুলোতে এক ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। শেষ মুহূর্তের ঈদের কেনাকাটায় শপিংমল থেকে ফুটপাত, সর্বত্রই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাজধানীর নিউ মার্কেট, বসুন্ধরা সিটি এবং অন্যান্য শপিংমল ঘুরে দেখা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সেরে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন নগরবাসী। কর্মব্যস্ততার কারণে যারা আগে সময় বের করতে পারেননি, তারা এখন দ্রুত কেনাকাটা করছেন। কিছু মানুষ পরিবারের জন্য কেনাকাটা আগেই সেরে রাখলেও, নিজেদের জন্য পণ্য কেনা বাকি ছিল, যা তারা এখন কিনে নিচ্ছেন।

ফুটপাতের দোকানগুলোতেও সাশ্রয়ী মূল্যে পোশাক এবং জুতা পাওয়া যাচ্ছে, তাই সেখানে ক্রেতাদের ভিড় অনেক বেশি। বিক্রেতারা জানান, গত কয়েকদিনে বিক্রি কয়েকগুণ বেড়েছে এবং আশা করছেন চাঁদরাত পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

গুলিস্তানের এক পোশাক বিক্রেতা সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, গত তিন-চার দিন ধরে বেশ ভালো বেচাবিক্রি হচ্ছে এবং এই ধারা চাঁদরাত পর্যন্ত চলবে।

বড় শপিংমলগুলোতে ক্রেতাদের ভোগান্তিও কম নয়। অনেক দোকানে পণ্য কেনার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। তবে ঈদের আগে পছন্দের পোশাক কেনার তাগিদে এই ভিড় এবং কষ্ট হাসিমুখেই উপেক্ষা করছেন ক্রেতারা।

নিউ মার্কেটে মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা করতে আসা ইভা আক্তার জানান, আমার বাবা একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় কাজ করেন। আজ রাতে ছুটি পাওয়ার পরপরই আমরা গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হবো। তাই শেষ মুহূর্তে বাকি কেনাকাটাগুলো সেরে নিচ্ছি।

বসুন্ধরা সিটিতে ‘ইজি’, ‘প্লাস পয়েন্ট’ ও ‘ইয়োলো’-র মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের দোকানগুলোতে কেনাকাটার ধুম পড়েছে। বিক্রেতারা জানান, ঈদের শেষ সময়ে বেচাবিক্রি আশাতীত ভালো হচ্ছে এবং শৌখিন ক্রেতারা মানসম্মত পণ্যের খোঁজে ভিড় করছেন।

জুতার বাজারেও বিক্রি বেড়েছে। ‘এপেক্স’ ও ‘বাটা’-র বিক্রয়কর্মীরা জানান, গত কয়েক দিনে বিক্রি কয়েকগুণ বেড়েছে। শুরুর দিকে বিক্রি কিছুটা কম হলেও, ঈদের আগমুহূর্তে ক্রেতাদের চাপ সামলাতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন।

পাঞ্জাবি ও পাজামার বাজারে এবারও রয়েছে বিক্রি বাড়ানোর প্রবণতা। বায়তুল মোকাররম মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় পাঞ্জাবি বিক্রেতা মোখলেস উদ্দিন জানান, গত তিন-চার দিনে বেচাবিক্রি অনেক বেড়েছে। আজ সকাল থেকে দুপুর ২টার মধ্যে ১২টি পাঞ্জাবি বিক্রি করেছি।

এভাবে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ঢাকা এখন উৎসবের শহরে পরিণত হয়েছে, যেখানে ঈদের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..