ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়েই চলছে। যুদ্ধের প্রভাব কমাতে বড় দেশগুলো তাদের জরুরি মজুদ থেকে রেকর্ড পরিমাণ তেল ছাড়ার বিষয়ে সম্মত হলেও তেলের দাম বেড়েই চলছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইএ) ৩২টি সদস্য দেশ সরবরাহ উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দেয়। এ ঘোষণার পরেও এশিয়ায় ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার (৭৪.৭৯ ডলার) ছাড়িয়ে গেছে।
গতকাল বুধবার ইরান সতর্ক করে দিয়েছিল, জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের ওপর হামলা বাড়ায় তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এর একজন মুখপাত্র বলেছেন, হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা তাদের মিত্রদের সঙ্গে যুক্ত যেকোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
ওই মুখপাত্র বলেন, ‘তেলের দাম কৃত্রিমভাবে কমাতে পারবেন না। প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে, এর জন্য প্রস্তুত থাকুন।’
তিনি আরো বলেন, ‘তেলের দাম আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করে এবং আপনি এই অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতার প্রধান উৎস।’ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ইঙ্গিত করেই এমন মন্তব্য করেছেন তিনি। হরমুজ প্রণালী বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
আইএ সদস্যরা বিশ্বব্যাপী প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জ্বালানি উৎপাদন এবং ব্যবহার করে। মজুতের তেল বাজারে ছাড়ার এই সিদ্ধান্ত আইএ-এর পূর্ববর্তী রেকর্ডের দ্বিগুণেরও বেশি।
সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির মার্টিন মা বলেন, ‘আইএ-এর সিদ্ধান্ত ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হলেও, এটি কেবল সাময়িক সুরক্ষা ব্যবস্থা।’ তিনি আরো বলেন, ‘তেলের দাম ততক্ষণ পর্যন্ত বেশি থাকবে, যতক্ষণ না সরবরাহের ঝুঁকি থাকে। সর্বশেষ দাম বাড়ার কারণে এখন ব্যবসায়ীরাও সরবরাহে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা করছে।’
২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরায়েলের বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বব্যাপী তেল বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। এই সপ্তাহের শুরুতে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দামও বেড়েছে।
আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৩.৫০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল এশিয়ার অনেক দেশ।
এই সপ্তাহে ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনামের পেট্রোল পাম্পগুলিতে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। থাই কর্তৃপক্ষ বেশিরভাগ সরকারি সংস্থার কর্মীদের জ্বালানি সংরক্ষণের জন্য বাড়ি থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। কর্মকর্তাদের অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ থেকেও নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
জ্বালানি ব্যবহার কমাতে ফিলিপাইন চার দিনের কর্ম সপ্তাহও শুরু করেছে। পাকিস্তানেও এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সূত্র : বিবিসি
এ জাতীয় আরো খবর..