মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আয়ারল্যান্ডে লাফিয়ে বাড়ছে পেট্রল ও ডিজেলের দাম। পাশাপাশি রেকর্ড ভেঙেছে ঘর গরম রাখার জন্য প্রয়োজনীয় কেরোসিন তেলের দামও। শীতপ্রধান দেশটিতে জ্বালানির এমন লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার আঁচ লেগেছে বিশ্বের তেলের বাজারে। সংঘাত শুরুর আগে আয়ারল্যান্ডে প্রতি লিটার ডিজেল ও পেট্রল বিক্রি হচ্ছিল ১ ইউরো ৬৮ থেকে ৭৩ সেন্টের মধ্যে। তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রতিদিনই বাড়ছে দাম।
বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ২ ইউরো ছাড়িয়েছে, আর পেট্রলও ছুঁই ছুঁই করছে দুই ইউরোর ঘর। তবে সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাজ ফেলেছে ঘর গরম করার কেরোসিন তেলের দাম। আগে যে ৫০০ লিটার কেরোসিন ৪৯৪ ইউরোতে পাওয়া যেত, এখন তা কিনতে গুনতে হচ্ছে ৮৮০ ইউরো।
গড়ে দাম বেড়েছে প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ। জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, তেলের দাম বাড়ায় পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের খরচও।
আরও পড়ুন: তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার হবে, হুঁশিয়ারি ইরানের
বিশ্লেষকদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতি পরিবারকে বছরে গড়ে অতিরিক্ত এক হাজার ইউরোর বেশি খরচ করতে হবে। হাড়কাঁপানো শীতের এই দেশটিতে অন্তত ১৫ লাখ মানুষ ঘর গরম রাখতে কেরোসিন ব্যবহার করেন।
একদিকে যাতায়াত খরচ বৃদ্ধি, অন্যদিকে ঘরের উষ্ণতা ধরে রাখার অতিরিক্ত ব্যয়-সব মিলিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিসহ দেশটির সাধারণ মানুষ। প্রবাসীরা বলছেন, গ্যাস-তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে; এতে চাপ বাড়ছে জীবন-জীবিকায়। সরকারকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে।
এদিকে, বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ভোক্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা। কোনো প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত মুনাফার লোভে আইন লঙ্ঘন করলে ১ কোটি ইউরো পর্যন্ত জরিমানার কথা বলা হয়েছে।
তবে চলমান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু জ্বালানি নয়, খাদ্যদ্রব্যের দামও আকাশচুম্বী হওয়ার শঙ্কা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ জাতীয় আরো খবর..