ময়মনসিংহে একটি ছাত্রাবাসের ‘ঘুমকাণ্ড’ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। ভোররাতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন এক শিক্ষার্থী। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও তার ঘুম ভাঙেনি। দীর্ঘ সময় ধরে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে মেসের অন্যান্য সদস্যরা পুলিশে খবর দেন।
পরে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে। ঘটনাটির একটি ভিডিও মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, ছাত্রাবাসের দরজায় ধাক্কা দিয়ে সহপাঠীরা ওই শিক্ষার্থীকে ডাকছেন, কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়া মিলছে না। বিষয়টি টের পেয়ে আশপাশের লোকজন জড়ো হন। অনেক চেষ্টা করেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে স্থানীয় থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ওই শিক্ষার্থীকে জাগিয়ে তোলেন।
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জুলহাস উদ্দিন বলেন, নগরীর সানকিপাড়া হেলথ অফিসার গলির একটি ছাত্রাবাসে ভোররাতে এক শিক্ষার্থী ঘুমিয়ে পড়েন। তার সহপাঠীরা বাইরে চলে গেলে তিনি ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে ঘুমান। সকালে সহপাঠীরা ফিরে এসে ডাকাডাকি করলেও তার সাড়া পাননি। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ভিড় জমে। পরে পুলিশ এসে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর দরজা ভেঙে সোহান নামে ওই শিক্ষার্থীকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, ওই শিক্ষার্থী সারারাত না ঘুমিয়ে ভোররাতে ঘুমায়। তাই অনেক ডাকাডাকি করলেও সে টের পায়নি। সোমবার বিকেল ৩টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করা হয়। তিনি সুস্থ আছেন।
সোহান নগরীর একটি বেসরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলায়।
এ জাতীয় আরো খবর..