অমর একুশে বইমেলা

শিশুদের কোলাহলে মুখর শিশুপ্রহর

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০২-২৭, | ২২:৫৬:০৯ |
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় আয়োজন অমর একুশে বইমেলার দ্বিতীয় দিন শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি)। এদিন ছিল বইমেলার অন্যতম আকর্ষণ শিশুপ্রহর। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রমনা কালী মন্দির থেকে সরিয়ে এনে এবার মুক্তমঞ্চের পাশে ঠাঁই দেওয়া হয়েছে শিশুপ্রহরকে। বেলা ১১টায় খুলে যায় মেলার দুয়ার।

মুহূর্তেই শিশুদের কোলাহলে মুখর হয়ে ওঠে শিশুপ্রহর।

মেলায় গিয়ে দেখা যায়, খুদে পাঠকরা অভিভাবকদের হাত ধরে স্টলে স্টলে খুঁজে বেড়াচ্ছে তাদের প্রিয় বই। ছয় বছরের অরিত্র কয়েকটি বই হাতে নিয়ে দাদার কাছে বায়না ধরছিল, সুপারম্যান শেখার বই ও রং করার খাতা কিনে দেওয়ার জন্য। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অমল হাওলাদার জানান, নাতিকে এবারই প্রথম বইমেলায় এনেছেন।
বইয়ের প্রতি তার আগ্রহ দেখে ভালো লাগছে।

প্রথম শিশুপ্রহরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল পাপেট শো। মঞ্চের সামনে পাটি বিছিয়ে বসে শিশুরা অপেক্ষা করে অনুষ্ঠান শুরুর। অপু ও দিপু নামের দুই পুতুল চরিত্র গল্পের ফাঁকে শিক্ষামূলক বার্তা দেয়।


পরে পরিচিত গানের সুরে মঞ্চে আসে বাঘ পুতুল, যা দেখে হাততালি ও উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে শিশুরা। বাঘটি মঞ্চ থেকে নেমে শিশুদের মাঝে গেলে তারা হাত বাড়িয়ে ছুঁতে চায়। পাপেট শো শেষে বাবার কোলে বসা তাসনিম প্রশ্ন করে, বাঘটা আবার আসবে?

শিশুপ্রহর ঘিরে মেলার ভেতরে তৈরি হয় আলাদা আবহ। ছোটদের বই, ছড়া, গল্প ও আঁকার খাতায় ভরপুর স্টলগুলোতে ছিল ভিড়। কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা আসাদুজ্জামান আশিক বলেন, পাপেট শোর মাধ্যমে শিশুদের আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক কুসংস্কারবিরোধী বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

প্রতিটি শিশুপ্রহরে ভিন্ন গল্প, গান ও অংশগ্রহণমূলক আয়োজন থাকবে বলেও জানান তিনি।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সকাল থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে থাকছে বিশেষ আয়োজন। বেলা ১১টায় দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে মেলার দুয়ার আর বেলা ১টা পর্যন্ত চলবে শিশুদের জন্য নির্ধারিত শিশুপ্রহর।

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এসময় শিশু-কিশোরদের জন্য থাকছে নানা আকর্ষণীয় আয়োজন। নতুন বইয়ের ঘ্রাণ আর রঙিন মলাটের মোহে ছোট পাঠকদের চোখে থাকবে উচ্ছ্বাস। অভিভাবকদের হাত ধরে আসা শিশুদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠবে মেলার মাঠ।

প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শিশুপ্রহর আয়োজন করা হয়। অমর একুশে পালনের অংশ হিসেবে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতারও আয়োজন রাখা হয়েছে, যা ছোটদের সৃজনশীলতা বিকাশে ভূমিকা রাখবে।

এবারের বইমেলা নানা সমীকরণে কিছুটা সংক্ষিপ্ত, মোট ১৮ দিনের আয়োজন। রমজান মাসের কারণে দর্শনার্থী উপস্থিতি ও বই বিক্রি নিয়ে শুরুতে দুশ্চিন্তা থাকলেও প্রথম দিনের বেচাকেনায় আশার আলো দেখছেন প্রকাশকরা। যদিও এখনো প্রায় ৪০ শতাংশ স্টলের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি।

প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে। তবে ছুটির দিনে মেলা শুরু হবে বেলা ১১টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে প্রাণের এই বইমেলা।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..