পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান-এর চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ পেলে কারাবন্দি ইমরান খানকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা যেতে পারে।
বুধবার একটি টক শোতে তিনি বলেন, রাওয়ালপিন্ডির সেন্ট্রাল জেলে পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড দুই দফা ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। পিটিআই চিকিৎসা ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট না হলে তারা সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে, ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইন্সটিটিউট অব মেডিক্যাল সাইন্সেস (পিআইএমএস)-এ ফলোআপ ভিজিটে দ্বিতীয়বারের মতো চোখে ইনজেকশন নেন ইমরান খান। গত জানুয়ারির শেষ দিকে তার ডান চোখে প্রথম ইনজেকশন দেওয়া হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী মোট তিনটি ইনজেকশন প্রয়োজন, যার তৃতীয়টি আগামী ২৩ মার্চ দেওয়ার কথা।
ইমরান খান ‘সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন (সিআরভিও)’ নামে গুরুতর চোখের রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে তার আইনজীবী সালমান সাফদার সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দি এই নেতা তার ডান চোখের প্রায় ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।
টক শোতে রানা সানাউল্লাহ আরও বলেন, জেলবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে পিটিআই নেতৃত্ব ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ সীমিত করার পর থেকেই ইমরান খানের অসুস্থতা নিয়ে গুজব ছড়ানো হয়। পরিস্থিতি পরিষ্কার করতে তার বোনের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, পরিবার বা দলের সন্তুষ্টি আলাদা বিষয়-আইনের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। পিএমএল-এন নেতার অভিযোগ, পিটিআই নেতৃত্ব ইমরান খানের অসুস্থতাকে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করছে।
এক প্রশ্নের জবাবে রানা সানাউল্লাহ বলেন, পিএমএল-এন প্রধান নওয়াজ শরীফের হৃদরোগ ছিল এবং আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর চিকিৎসার জন্য তিনি বিদেশ ভ্রমণ করেছিলেন এবং তিনবারের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী সমস্ত প্রয়োজনীয় শর্ত এবং আনুষ্ঠানিকতা পূরণ করেছিলেন।
সূত্র : জিও নিউজ