যুক্তরাষ্ট্রে একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় ২০ বছর বয়সী স্যামুয়েল ট্রেমব্লেট নামে এক তরুণের মৃত্যু ঘটনায় টেসলার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তার মা। ইলেকট্রনিক ডোর হ্যান্ডল ভেঙে গিয়ে ট্রেমব্লেট দুর্ঘটনার পর গাড়ি থেকে বের হতে পারেননি, এমন অভিযোগ করেছেন তিনি। এক প্রতিবেদনে রবিবার এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।
ট্রেমব্লেট সিরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন।
গত বছর ম্যাসাচুসেটসের ইস্টনে টেসলা ওয়াই মডেলের গাড়িতে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৬ সাল থেকে টেসলার গাড়িতে অন্তত ১৫টি অনুরূপ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, দুর্ঘটনার কয়েক মুহূর্ত পরে ট্রেমব্লেট ৯১১-এ ফোন করেছিলেন ট্রেমব্লেট। এ সময় তিনি জানিয়েছিলেন, গাড়িতে আগুন লাগায় তিনি বের হতে পারছেন না এবং শ্বাসকষ্টে ভুগছেন।
ফোনে তিনি কেঁদে বলেছিলেন, ‘আমি গাড়িতে আটকে পড়েছি। বের হতে পারছি না। দয়া করে সাহায্য করুন। আমি মরতে যাচ্ছি।
’
২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল। ট্রেমব্লেটের গাড়িটি রুট ১৩৮-এর দক্ষিণমুখী লেনে প্রবেশ করে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। প্রাথমিক ধাক্কার পর তিনি বেঁচে ছিলেন, কিন্তু গাড়িটিতে সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছলেও আগুনের তীব্রতার কারণে টেমব্লেটকে উদ্ধার করতে পারেননি। গাড়ি থেকে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং আগুন নেভাতে কয়েক ঘণ্টা লেগেছে।
তার মরদেহ পরে গাড়ির পেছনের সিটে পাওয়া যায়।
মামলায় বলা হয়েছে, টেসলার ইলেকট্রনিক ডোর হ্যান্ডেল কাজ না করায় ট্রেমব্লেট গাড়ি থেকে বের হতে পারেননি।
মামলায় দাবি করা হয়, টেসলার এ মডেলের গাড়িটির নকশা ত্রুটিপূর্ণ এবং দুর্ঘটনা বা আগুনের সময় বিপজ্জনক। টেসলার গাড়িতে ফ্লাশ ইলেকট্রনিক ডোর হ্যান্ডেল থাকে, যা বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। ম্যানুয়াল রিলিজ থাকলেও তা স্পষ্ট নয় এবং জরুরি সময় ব্যবহার করা সহজ নয়।
মামলায় আরো দাবি করা হয়েছে, ২০১৬ সাল থেকে কমপক্ষে ১৫টি অনুরূপ দুর্ঘটনায় যাত্রীরা গাড়িতে আটকে পড়ে মারা গেছেন।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংস্থা বর্তমানে প্রায় দুই লাখ টেসলা গাড়ির ডোর হ্যান্ডেল নিরাপত্তা পরীক্ষা করছে। চীন ইতিমধ্যেই স্বয়ংক্রিয় গাড়ির ডোর হ্যান্ডেল জাতীয়ভাবে নিষিদ্ধ করেছে। টেসলা এখনো এই মামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
এ জাতীয় আরো খবর..