সুদানের উত্তর কর্দোফান প্রদেশে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) এক ভয়াবহ ড্রোন হামলায় অন্তত ২৪ জন বাস্তুচ্যুত বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্কের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে আটজন শিশু রয়েছে, যাদের মধ্যে দুজন ছিল দুগ্ধপোষ্য শিশু। ডুবেকার এলাকা থেকে যুদ্ধের হাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসা একটি পরিবারবাহী যানবাহনকে লক্ষ্য করে রাহাদ শহরের কাছে এই হামলা চালানো হয়।
এই ঘটনার আগে শুক্রবারও (৬ ফেব্রুয়ারি) উত্তর কর্দোফানের বিভিন্ন এলাকায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) ত্রাণ বহর ও জ্বালানি ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল। সেই হামলায় একজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।
উত্তর কর্দোফান রাজ্য সরকার এই নেক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং আরএসএফ নেতৃত্বের ওপর কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য জাতিসংঘ ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক এই ঘটনাকে ‘আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন’ এবং একটি ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা এই হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ত্রাণকর্মী ও মানবিক অবকাঠামো রক্ষায় আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি তুলেছে।
জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছে যে দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের জন্য পাঠানো খাদ্য সহায়তা ধ্বংস করা এবং সাধারণ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানানো কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
সুদান বর্তমানে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সেনাবাহিনী এবং আরএসএফের মধ্যকার প্রায় তিন বছরব্যাপী এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছেন।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, সুদানের ২ কোটিরও বেশি মানুষ এখন তীব্র খাদ্য সংকটের মুখে রয়েছে এবং দেশের বিশাল একটি অংশ দুর্ভিক্ষের গ্রাসে তলিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা।
এ জাতীয় আরো খবর..