গ্ল্যামার, ক্ষমতা আর অগাধ সম্পদের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক পৈশাচিক অধ্যায়। কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন গড়ে তুলেছিলেন এক নারকীয় সাম্রাজ্য। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত এপস্টেইন ফাইলসের নথি প্রকাশ হওয়ার পরে পুরো বিশ্বে এটি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। যে তালিকায় রয়েছেন রথী-মহারথী রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী, লেখক থেকে শুরু করে অভিনেতারাও। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
এবার নতুন কিছু নথিতে নাম জড়িয়েছে পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসন এবং রক কিংবদন্তি মিক জ্যাগারের। গত মঙ্গলবার পাম বন্ডি কর্তৃক প্রস্তুতকৃত এপস্টাইন ফাইলের একটি বড় অংশ প্রকাশ করা হয়, যেখানে বিনোদন ও রাজনৈতিক জগতের একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির ছবি পাওয়া গেছে।
প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে, জেফ্রি এপস্টেইন ও তার সহযোগী গিজলেন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে বিভিন্ন প্রমোদ ভ্রমণে অংশ নিয়েছিলেন অনেক তারকা। এর মধ্যে একটি ছবিতে মাইকেল জ্যাকসনকে ডায়ানা রস ও বিল ক্লিনটনের সঙ্গে দেখা গেছে। অন্য একটি ছবিতে পপসম্রাটকে এপস্টাইনের পাম বিচ হাউসেও দেখা গেছে।
তবে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এসব ছবিতে বা নথিতে মাইকেল জ্যাকসনের কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি ডায়ানা রস ও ক্লিনটনের সঙ্গে জ্যাকসনের যে ছবিটি ছড়িয়েছে, সেটি ২০২২ সালের একটি ডেমোক্রেটিক ফান্ডরাইজারের সময় তোলা বলে জানা গেছে।
২০১৬ সালের একটি জবানবন্দিতে এপস্টাইনের এক অভিযোগকারী জানিয়েছিলেন, তিনি এপস্টাইনের বাড়িতে মাইকেল জ্যাকসনকে দেখেছিলেন। তবে সেই জবানবন্দিতেও জ্যাকসনের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অনৈতিক আচরণের অভিযোগ তোলা হয়নি।
অন্যদিকে, রোলিং স্টোনসের তারকা মিক জ্যাগারের একটি ছবি পাওয়া গেছে বিল ক্লিনটন ও এপস্টাইনের সঙ্গে একটি ডিনারে। সেখানেও জ্যাগারের কোনো বেআইনি কাজের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
তালিকায় বিনোদন জগতের বাইরে রাজনীতিকদের মধ্যে বিল ক্লিনটন এবং অভিনেতা ক্রিস টাকারের নাম ও ছবিও রয়েছে। বিচার বিভাগের এই নতুন তথ্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবারও কনস্পিরেসি থিওরি বা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ডালপালা মেলতে শুরু করেছে। বিনোদন জগতের এই মহাতারকাদের নাম আসায় ভক্তদের মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
এ জাতীয় আরো খবর..