হাইব্রিড প্রযুক্তির ব্যবহার গাড়িতে অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে। টয়োটা প্রিয়াসের মতো গাড়িগুলো বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে মোটরসাইকেলের জগতে বিষয়টি এখনো বেশ নতুন। সেই নতুন ও চ্যালেঞ্জিং পথে পা বাড়াল জাপানি মোটরসাইকেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কাওয়াসাকি। প্রতিষ্ঠানটি এবার বাজারে এনেছে বিশ্বের প্রথম হাইব্রিড মোটরসাইকেল ‘নিনজা জেড৭ হাইব্রিড’।
জিরো বা লাইভওয়্যারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক বাইক বানালেও হাইব্রিড বাইক তৈরির সাহসিকতা দেখাল কাওয়াসাকি। হোন্ডার কিছু হাইব্রিড স্কুটার থাকলেও পূর্ণাঙ্গ প্রথম মোটরসাইকেল নিনজা জেড৭।
এই বাইকটিতে নিনজা ৫০০ স্পোর্ট বাইকের ৪৫১ সিসির প্যারালাল-টুইন ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে ১২ হর্সপাওয়ার ও ৩০ পাউন্ড-ফুট টর্কের একটি বৈদ্যুতিক মোটর। মোটরটিকে শক্তি জোগাতে রয়েছে ১.৩৭ কিলোওয়াট-আওয়ারের ৪৮-ভোল্ট লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি। কাওয়াসাকি দাবি করেছে, পেট্রল ইঞ্জিন ও বৈদ্যুতিক মোটরের সমন্বয়ে তৈরি এই হাইব্রিড প্রযুক্তির কারণে বাইকটি ১ হাজার সিসির সুপারস্পোর্ট বাইকের মতো দ্রুত গতি তুলতে পারে। আবার একই সঙ্গে এটি ২৫০ সিসির বাইকের মতো তেল সাশ্রয় করতে সক্ষম।
বাইকটির ওজন প্রায় ২২৮ কেজি, যা এই সেগমেন্টের সাধারণ বাইকের তুলনায় বেশ ভারী। ব্যাটারি ও মোটরের স্থানসংকুলানের জন্য এর চেসিস কিছুটা লম্বা করা হয়েছে। দীর্ঘ হুইলবেস বা দুই চাকার মধ্যবর্তী দূরত্বের কারণে এটি চালানোর সময় সাধারণ নিনজা বাইকের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন অনুভূতি দেবে।
তিনটি রাইড মোড
নিনজা জেড৭ হাইব্রিডে রয়েছে ইভি, ইকো-হাইব্রিড ও স্পোর্ট-হাইব্রিড রাইড মোড। ইভি মোডে বাইকটি সম্পূর্ণ ব্যাটারির শক্তিতে চলে। সর্বোচ্চ গতি থাকে ঘণ্টায় ৪০ মাইলের কাছাকাছি এবং ৮-১০ মাইল পর্যন্ত পথ পাড়ি দেওয়া যায়। লোকালয়ে নিঃশব্দে চলাচলের জন্য এটি বেশ উপযোগী। এই মোডে গিয়ার পরিবর্তন স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়।
ইকো-হাইব্রিড মোডে পেট্রল ইঞ্জিন ও বৈদ্যুতিক মোটর একসঙ্গে কাজ করে সর্বোচ্চ তেল সাশ্রয় নিশ্চিত করে। ট্রাফিক সিগন্যালে থামলে এর ইঞ্জিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। বাইকের গতি ১৫ মাইলে উঠলে আবার চালু হয়।
স্পোর্ট-হাইব্রিড মোডে পেট্রল ইঞ্জিন সব সময় চালু থাকে। আর ‘ই-বুস্ট’ বাটন চাপলে বৈদ্যুতিক মোটর থেকে বাড়তি শক্তি পাওয়া যায়। কাওয়াসাকি দাবি করেছে, এই মোড ব্যবহার করে মাত্র ৪.২ সেকেন্ডে ঘণ্টায় ০ থেকে ৬০ মাইল গতি তোলা সম্ভব।
বাইকটিতে কোনো ক্লাচ লিভার বা পায়ের গিয়ার শিফটার নেই। সব নিয়ন্ত্রণ হাতের মুঠোয়। হ্যান্ডেলবারে থাকা বিভিন্ন সুইচ বা বাটনের মাধ্যমে গিয়ার পরিবর্তন ও মোড ঠিক করতে হয়। এটি নতুন চালকদের জন্য কিছুটা বিভ্রান্তিকর হতে পারে। প্রথাগত বাইক চালানোর যে আনন্দ, এখানে তা কিছুটা ব্যাহত হতে পারে। কারণ প্রতিটি ধাপের জন্য নির্দিষ্ট বাটন মনে রাখতে হয়।
মজার বিষয়, এই বাইকের ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার জন্য আলাদা কোনো প্লাগ-ইন সুবিধা নেই। পেট্রল ইঞ্জিন চলার সময় ব্যাটারি নিজে থেকে চার্জ হয়। এ ছাড়া ভারী এই বাইকটি পার্কিংয়ের সুবিধার্থে এতে ‘ওয়াক মোড’ রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে বাইকটিকে ধীরে সামনে বা পেছনে নেওয়া যায়।
প্রযুক্তির নতুনত্বের কারণে বাইকটির দাম ধরা হয়েছিল বেশ চড়া, যা ১২ হাজার ৪৯৯ ডলার। তবে বাজারে খুব একটা সাড়া না পাওয়ায় বর্তমানে বড় ধরনের ছাড় দেওয়া হচ্ছে। কাওয়াসাকির নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রায় ৪ হাজার ডলার ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
হাইব্রিড বাইক হিসেবে এটি অটোমোবাইল শিল্পে বড় মাইলফলক। যারা বৈদ্যুতিক বাইকের চার্জ শেষ হওয়া নিয়ে চিন্তিত, তাদের জন্য পেট্রল ইঞ্জিনের ব্যাকআপ যুক্ত এই বাইক ভালো বিকল্প হতে পারে। কিছু জটিলতা থাকলেও কাওয়াসাকি প্রমাণ করেছে, তারা নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে প্রস্তুত।
এ জাতীয় আরো খবর..