গণমাধ্যম সম্মিললনে বক্তারা : সাংবাদিকদের সংঘবদ্ধতা জরুরি

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০১-১৭, | ১৪:৫২:৩০ |
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর সংগঠিত হামলার প্রতিবাদ এবং স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও সাহসী সাংবাদিকতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জানাতে ‘গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশে প্রথমবারের মতো এমন আয়োজন করা হয়েছে।

সম্মেলনে বক্তারা বলেছেন, সাংবাদিকদের নিজেদের মধ্যে সংঘবদ্ধতা জরুরি। একই সঙ্গে সমস্যা সমাধান ও গণমাধ্যমের ওপর আক্রমণ প্রতিরোধে  সম্মিলিত প্রয়াসগুলো গ্রহণ করার প্রয়োজন। তারা বলেন, এই সম্মিলনে পত্রিকা, অনলাইন, টেলিভিশন, সাংবাদিক ইউনিয়নের এক জায়গায় একত্র হওয়ার বিষয়টিকে বড় অগ্রগতি। তারা সাংবাদিকদের যেকোনো মত ও আদর্শের উর্ধ্বে ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপার জোর দেন।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের (কেআইবি) মিলনায়তনে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে এই সম্মিলন শুরু হয়। এর পরে একটি ডকুমেন্টারিতে গণমাধ্যম সম্মিলন আয়োজনের উদ্দেশ্য তুলে ধরা হয়। বেলা দেড়টা পর্যন্ত এ সম্মিলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এবং সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ যৌথভাবে এ আয়োজন করেছে।

আয়োজকরা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ হচ্ছে, বিশেষ করে মব ভায়োলেন্সের কারণে। এতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সামনে নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।



সম্মিলনে সাংবাদিকরা গণমাধ্যমের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও স্বাধীনতা রক্ষা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে তাদের বক্তব্য তুলে ধরবেন।

নোয়াব ও সম্পাদক পরিষদ, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার, জাতীয় প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ডিপ্লোম্যাটিক করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম, ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা সম্মিলনে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন ঢাকার বাইরে কর্মরত সাংবাদিক, সম্পাদক, প্রকাশক, আমন্ত্রিত মিডিয়া পেশাজীবী ও কলামিস্টরাও। এই সম্মিলনের মূল লক্ষ্য হলো দায়িত্বশীল ও সাহসী সাংবাদিকতার পক্ষে একসঙ্গে দাঁড়ানো।



নুরুল কবির : সম্মেলনে সংবাদপত্র সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা কোনো অপরাধের আকাঙ্ক্ষা নয়। এই গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নে যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করে সেগুলোকে রাষ্ট্র, সরকার, আইনগতভাবে কিংবা পেশিশক্তির মাধ্যমে স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এর জন্য নিজেদের মধ্যে একদিকে যেমন এই সংঘবদ্ধতার প্রয়োজন, তেমনি সম্মিলিত প্রয়াসগুলো গ্রহণ করার প্রয়োজন।

মতিউর রহমান : প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, ‘সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য থাকাটা জরুরি। যেকোনো বিষয়ে, যেকোনো সময়, যেকোনো বিরোধই ক্ষতিকারক।’ সম্মিলনে পত্রিকা, অনলাইন, টেলিভিশন, সাংবাদিক ইউনিয়নের এক জায়গায় একত্র হওয়ার বিষয়টিকে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন মতিউর রহমান। তিনি বলেন, ‘এটা বিগত ৫৫ বছর বলেন, ১৫ বছর বলেন, এ সময়ের মধ্যে এটা একটা বড় অগ্রগতি, বড় ভাবনা, বড় চিন্তা।’

মাহফুজ আনাম : স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করলে, সত্যিকার অর্থে সেই উদারপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি রাখলে সরকারই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে বলেন ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম। সম্মিলনে সরকারকে উদ্দেশ করে মাহফুজ আনাম বলেন, 'সরকার আপনি মনে রাখবেন, আপনাকে কেউ সত্য কথা বলবে না। আপনার দলীয় লোকেরা বলবে না ভয়ে এবং আপনার সরকারের ব্যুরোক্রেসি বলবে না। আপনার সরকারের ইন্টেলিজেন্স কমিউনিটি বলবে না। তারা সব সময় আপনাকে প্রশংসার মধ্যে প্রশংসার জগতে আবদ্ধ রাখবে। স্বাধীন সাংবাদিকতা হচ্ছে একমাত্র প্রতিষ্ঠান, আপনাকে সত্য কথা বলে।'

ডেইলি স্টার সম্পাদক বলেন, সংবিধানে মাত্র দুটি পেশাকে বিশেষ সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে—স্বাধীন বিচার বিভাগ ও স্বাধীন গণমাধ্যম। এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, যেসব সমাজে সাংবাদিকতা শক্তিশালী ও স্বাধীন, সেসব সমাজে গণতন্ত্র সুদৃঢ় হয় এবং নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..

Dhaka Forecast & Prayer Schedule

--°C
Loading...
💧 Humidity
--%
🌬 Wind
-- km/h

3-Day Forecast

Prayer Time

🕌 Fajr 🕌 Dhuhr
-- --
🕌 Asr 🕌 Maghrib
-- --
🕌 Isha
--
Loading countdown…
দেশ ও মুদ্রা ১ ইউনিট = টাকা পরিবর্তন
⏳ Currency data loading...