লাস ভেগাসে চলমান কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স শো (সিইএস) ২০২৬-এ গাড়িপ্রেমীদের জন্য এক বড় চমক নিয়ে হাজির হয়েছে সনি ও হোন্ডার যৌথ উদ্যোগ ‘সনি হোন্ডা মোবিলিটি’ (এসএইচএম)। প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রথম বৈদ্যুতিক সেডান ‘আফিলা-১’-এর প্রাক-উৎপাদন মডেল দেখানোর পাশাপাশি একটি নতুন এসইউভি প্রোটোটাইপ উন্মোচন করেছে। নতুন এই এসইউভি ২০২৮ সাল নাগাদ বাজারে আসার কথা রয়েছে।
সনি ও হোন্ডার এই জোট শুধু একটি বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি করতে চায় না; বরং তারা গাড়িকে একটি ‘ক্রিয়েটিভ এন্টারটেইনমেন্ট স্পেস’ বা সৃজনশীল বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য হচ্ছে গাড়িকে এমন একটি বুদ্ধিবৃত্তিক সঙ্গী হিসেবে রূপান্তর করা, যা ব্যবহারকারীর পছন্দ ও আবেগ বুঝতে পারবে।
এসএইচএমের প্রেসিডেন্ট ও সিইও শুগো ইয়ামাগুচি জানিয়েছেন, তারা সাধারণ গণমুখী বাজারের চেয়ে একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির গ্রাহকদের সর্বোচ্চ মানের সেবা দিতে বেশি আগ্রহী।
আফিলা গাড়ির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে চলেছে এর বিনোদন ব্যবস্থা। এটি হতে যাচ্ছে বিশ্বের প্রথম গাড়ি যেখানে বিল্ট-ইন ‘রিমোট প্লে’ সুবিধা থাকবে। এর মাধ্যমে গাড়ির পেছনের সিটে বসে চালক বা যাত্রীরা বাড়িতে থাকা প্লে-স্টেশন ৪ বা ৫-এর গেমগুলো অনায়াসে খেলতে পারবেন। ফাইভ-জি প্রযুক্তির সহায়তায় এটি চলন্ত অবস্থায় গ্রাহককে বাড়ির ড্রয়িংরুমের মতো গেম খেলার অভিজ্ঞতা দেবে। এ ছাড়া গাড়ির ভেতর থাকবে ২৮টি হাই-পারফরম্যান্স স্পিকার ও ৪০ ইঞ্চি চওড়া ড্যাশবোর্ড স্ক্রিন, যা পুরো গাড়িকে একটি থিয়েটারের রূপ দেবে।
আফিলা-১-এ ব্যবহার করা হচ্ছে ‘আফিলা পার্সোনাল এজেন্ট’, যা মাইক্রোসফট অ্যাজিউর ওপেনএআই সার্ভিসের মাধ্যমে কাজ করে। এটি চালকের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারবে। এ ছাড়া নিরাপত্তার জন্য এতে ৪০টি সেন্সর ও ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও শুরুতে এটি ‘লেভেল ২+’ পর্যায়ের স্বয়ংক্রিয় চালনা সুবিধা দেবে, তবে ভবিষ্যতে সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে একে ‘লেভেল-৪’ বা প্রায় চালকবিহীন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
আফিলা-১ সেডানটির প্রাথমিক দাম ধরা হয়েছে ৮৯ হাজার ৯০০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকার বেশি। এর উন্নত সংস্করণের দাম ১ লাখ ২ হাজার ৯০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। একবার চার্জে গাড়িটি প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে হোন্ডার কারখানায় এই গাড়ির পরীক্ষামূলক উৎপাদন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ক্যালিফোর্নিয়ার গ্রাহকরা প্রথম এই গাড়িটির ডেলিভারি পাবেন। জাপানের বাজারে এটি ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে আসার কথা রয়েছে।
সনি ও হোন্ডার এই প্রচেষ্টা প্রমাণ করছে ভবিষ্যৎ অটোমোবাইল শিল্প কেবল যান্ত্রিক সক্ষমতার ওপর নয়, বরং সফটওয়্যার ও বিনোদন প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে।
এ জাতীয় আরো খবর..