হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল ক্লাস আয়োজন করে নতুন গিনেস বিশ্বরেকর্ড গড়েছে মেক্সিকো। রবিবার (১৫ মার্চ) রাজধানী মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক স্কয়ার জোকালোতে প্রায় ৪০ মিনিটের এক বিশাল ফুটবল প্রশিক্ষণ সেশনে অংশ নেন প্রায় ৯,৫০০ মানুষ। এর মাধ্যমে ভেঙে যায় আগের গিনেস রেকর্ডটি, যা যুক্তরাষ্ট্রের সিটল শহরে ১,০৩৮ জন অংশগ্রহণকারী নিয়ে হয়েছিল।
অনুষ্ঠান শেষে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের বিচারক আলফ্রেডো আরিস্টা বলেন, ‘আমরা ৯,৫০০ জনকে নিবন্ধন করেছি। তাই আপনাদের জানাতে পেরে আমি গর্বিত- এখন আপনারা আনুষ্ঠানিকভাবে অসাধারণ। অভিনন্দন।’
পুরস্কার গ্রহণের সময় মেক্সিকো সিটির মেয়র ক্লারা ব্রাগাডা বলেন, ‘আমরা বড় গিনেস বিশ্বরেকর্ড ভেঙেছি। ৯ হাজারেরও বেশি মানুষ একত্র হয়ে দেখিয়েছে যে আমরা অসাধারণ এবং অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারি। এই রেকর্ডের মাধ্যমে শহরটি বিশ্বকে একটি বার্তা দিচ্ছে- খেলা, বিশেষ করে ফুটবল, একটি সার্বজনীন ভাষা। এটি শান্তির ভাষা।’
এই আয়োজনটি ‘সোশ্যাল ওয়ার্ল্ড কাপ’ নামে একটি বৃহত্তর প্রচারণার অংশ। অনুষ্ঠানে সবুজ, সাদা ও লাল জার্সি পরা পরিবার, হাতে ফুটবল ধরা শিশু এবং বয়স্কদেরও দেখা যায় পেশাদার কোচদের সঙ্গে অনুশীলন করতে। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মেক্সিকোর সেই নারী দলের সদস্যরা, যারা ১৯৭১ সালের অনানুষ্ঠানিক নারী বিশ্বকাপ জিতেছিল। এছাড়া সাবেক পুরুষ খেলোয়াড়দের মধ্যেও ছিলেন গোলরক্ষক ওস্কার পেরেজ।
তবে এই আনন্দঘন আয়োজনের মাঝেও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। অংশগ্রহণকারী পাউলিনা রোসাস বলেন, ‘আমি বিশ্বকাপ নিয়ে উত্তেজিত, কিন্তু বর্তমানে দেশে অনেক রাজনৈতিক সমস্যা রয়েছে।’
সম্প্রতি মেক্সিকান সেনাবাহিনী কুখ্যাত মাদকচক্র নেতা নেমেসিও রুবেন ওসেগুয়েরা কারভান্তেসকে হত্যা করে। তিনি জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেলের প্রধান ছিলেন। এর পর বিভিন্ন রাজ্যে সহিংস প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু হয়, যার প্রভাব পড়ে বিশ্বকাপ আয়োজক শহরগুলোর একটি গুয়াদালাহাতেও।
এ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লদিও শেইনবাউম। তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে মেক্সিকো। ২০২৬ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজকের অপর দুই দেশ হলো- যুক্তরাষ্ট্র এবং কানডা। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ হবে ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজটেকা স্টেডিয়ামে, আগামী ১১ জুন।
এ জাতীয় আরো খবর..