ধানমন্ডি হকার্সে দম ফেলার ফুরসত নেই বিক্রেতাদের

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৩-১৯, | ১৩:০০:০৫ |
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর শপিংমল, শো-রুম থেকে ফুটপাত–সব জায়গাতেই এখন চলছে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা। গতকাল বুধবার ক্রেতা-বিক্রেতার উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে গাউসিয়া মার্কেটসংলগ্ন ধানমন্ডির হকার্স মার্কেটে। মার্কেটের শাড়ির দোকানগুলোতে দেখা যায় সব বয়সী নারীদের ভিড়। দোকানিদের দম ফেলার ফুরসত নেই। এ ছাড়া পাঞ্জাবি, কসমেটিকস ও আতর-টুপির দোকানগুলোতে দেখা গেছে ব্যাপক ভিড়।

জানা যায়, হকার্স মার্কেটে শুধু দিনের বেলাতেই নয়, মধ্যরাত পর্যন্ত চলে কেনাবেচা। পরিবার-পরিজন নিয়ে কেনাকাটা করতে আসা অনেকেই বাড়ি ফিরছেন সাহরি সেরেই। 

বিক্রেতারা জানান, রাত সাড়ে ৩টার দিকেও কাপড়সহ, পাঞ্জাবি, প্রসাধনীর দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়। অনেকে দিনে কাজ থাকায় রাতে কেনাকাটা করতে আসেন। 

এক ব্যবসায়ী জানান, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতার সংখ্যা কমার পরিবর্তে বরং বাড়ে। এতে করে দোকান খোলা রাখতে হচ্ছে গভীর রাত পর্যন্ত। তবে বিক্রি ভালো হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে ঈদ আনন্দ।

বিক্রেতারা বলছেন, এবার ঈদকে কেন্দ্র করে তাদের বিক্রি বেশ ভালো হয়েছে। কয়েক দিন ধরে ক্রেতার চাপ খুব বেশি। 

হকার্স মার্কেটে সব ধরনের শাড়ি পাওয়া গেলেও ক্রেতারা দেশি জামদানি শাড়ির জন্য এখানে ভিড় করেন বেশি। রোজার মাঝামাঝি বেশি বিক্রি ছিল বলে জানান বিক্রেতারা। এখনো বিক্রি হচ্ছে, তবে আগের চেয়ে কিছুটা কম।
এ মার্কেটের নিউ জামদানি কুটিরে ৬ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় জামদানি শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। এ দোকানের বিক্রেতা মো. সিয়াম জানান, প্রতিদিন ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকার মতো বিক্রি হয়। তবে প্রত্যাশা ছিল আরও বেশি বিক্রির।

এক ক্রেতা বলেন, আসলে সবকিছুরই দাম বেশি। কিন্তু কী করার, না কিনেও তো পারা যায় না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে কাপড়ের মান ভালো না, তবুও দাম ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা। 

অনেক দোকানে নতুন ডিজাইনের পাঞ্জাবি, শাড়ি ও থ্রি-পিসের ব্যাপক চাহিদা দেখা গেছে। এ ছাড়া কিশোরী-তরুণীরা কিনছেন জিন্স, টপস, কাফতান, ট্রেন্ডি পোশাক।

কলেজ পড়ুয়া এক কিশোরী জানায়, ঈদের মেইন ড্রেস কেনা হয়েছে আগেই। কিন্তু তা দাওয়াত, বিয়ের অনুষ্ঠান ছাড়া পরা যাবে না। ওয়ান পিস, টপস–এসব আশপাশের বাসায়, বান্ধবীদের সঙ্গে বের হতে গেলে লাগে। গরমেও পরে বেশ আরাম পাওয়া যায়।

মীর মাহবুব নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘এবার আশা অনুযায়ী বিক্রি করতে পেরেছি। দিনের চাইতে রাতে এখন কাস্টমার বেশি। চাঁদ রাত পর্যন্ত কেনাকাটা চলবে। এখন অনেকেই রাতে কেনাকাটা করতে পছন্দ করেন। তাই আমরা সারা রাত মার্কেট খোলা রাখি।’

রিমন নামের আরেকজন বলেন, ‘এখন আসলে আমাদের দম ফেলার সময় নাই। সকাল, বিকেল, ভোররাত কিছুই বোঝা যায় না। ভোররাত পর্যন্ত কাস্টমারের ভিড় থাকে। অনেকেই শপিং করে সাহরি খেয়ে বাসায় যান। ঈদ যত এগিয়ে আসছে, রাতের কেনাকাটা তত বাড়ছে। এবার ঈদের বাজার বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে।’

উত্তরা থেকে কেনাকাটা করতে আসা এক গৃহিণী বলেন, ‘রোজা রেখে মার্কেটিং করা কষ্টকর তাও এসছে, এটিই তো আসলে ঈদ আনন্দ। দেখে শুনে সময় নিয়ে কেনাকাটা করেছি। আর তো সময়ও নাই খুব একটা। তাই এর মধ্যে কেনাকাটা সেরে ফেলছি।’

মার্জিয়া নামে আরেক ক্রেতা বলেন, অফিস এখন ছুটি, তাই আজই কেনাকাটা সেরে ফেললাম। এরপর ঈদ করতে বাড়ির দিকে রওয়ানা হব। একবারে তো সব কেনা যায় না, তাই আগের রাতেও কেনাকাটা করতে এসেছিলাম। সেটা বেশ স্বস্তিদায়ক, রাস্তায় ভিড় কম থাকে। 

এদিকে ক্রেতাসাধারণের নিরাপত্তায় হকার্স মার্কেটের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..