কক্সবাজারের রামুতে চাহিদামতো জ্বালানি তেল না পেয়ে একটি ফিলিং স্টেশনে অস্ত্র উঁচিয়ে কর্মচারীকে মারধর ও তাণ্ডব চালানোর অভিযোগে বি কে আজম নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি স্থানীয় ‘বি কে আজম ব্রিকফিল্ড’র মালিক বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেলে কক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক মহাসড়কের রামুর মরিচ্যা বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন এশিয়া পেট্রলপাম্পে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, চাহিদামতো জ্বালানি না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি প্রথমে ফিলিং স্টেশনের এক কর্মচারীকে মারধর করেন। পরে প্রাইভেটকার থেকে নিজের লাইসেন্স করা শটগান বের করে কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখান এবং তাণ্ডব চালান। পুরো ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ বিষয়টি নজরে আনে। পরে বুধবার রাতে রামুর একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আজমকে আটক করা হয়।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অস্ত্র উঁচিয়ে ফিলিং স্টেশনে তাণ্ডব চালানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ তা গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তার লাইসেন্স করা শটগানটিও জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এশিয়া পেট্রলপাম্পের ব্যবস্থাপক নুরুল হক জানান, জেলায় জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী রেশনিং পদ্ধতি চালু রয়েছে। সে অনুযায়ী একটি প্রাইভেটকার এক হাজার টাকার বেশি জ্বালানি নিতে পারে না। কিন্তু বি কে আজম নির্ধারিত সীমার বাইরে অতিরিক্ত কয়েক হাজার টাকার জ্বালানি দাবি করেন। দাবি অনুযায়ী তেল না দেওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে কর্মচারীকে মারধর করেন এবং গাড়িতে থাকা শটগান বের করে হামলার চেষ্টা করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা পাঞ্জাবি-পায়জামা পরা এক ব্যক্তি প্রথমে এক কর্মচারীকে মারধর করছেন। পরে গাড়ি থেকে শটগান বের করে কর্মচারীদের দিকে তাক করেন। পরে অন্য একজন তাকে জাপটে ধরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ জাতীয় আরো খবর..