নতুন করে ১৩৫টি ওষুধকে ‘অত্যাবশ্যকীয়’ তালিকায় যুক্ত করে মোট ২৯৫টি ওষুধকে অত্যাবশ্যক ঘোষণা করেছে সরকার। এসব ওষুধ নির্ধারিত দামের বাইরে বিক্রি করা যাবে না এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. সায়েদুর রহমান এ তথ্য জানান। খবর
বিবিসি
তিনি বলেন, মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে অত্যাবশ্যকীয় তালিকাভুক্ত ওষুধগুলো সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে হবে। তবে ওষুধ কোম্পানিগুলোকে এ দামে আসার জন্য সময় দেয়া হবে। পর্যায়ক্রমে চার বছরের মধ্যে সবাইকে নির্ধারিত দামে আসতে হবে।
সায়েদুর রহমান জানান, এবারের তালিকায় আগের তুলনায় ১৩৫-১৩৬টি ওষুধ নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে। তালিকায় অন্তর্ভুক্ত সব ওষুধের মূল্য সরকার নির্ধারণ করবে। যেসব ওষুধ বর্তমানে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, সেগুলোকে ধাপে ধাপে কমাতে হবে। আর যেগুলো কম দামে আছে, সেগুলো চাইলে নির্ধারিত দামের মধ্যে থাকতে পারবে।
দাম নির্ধারণের সুফল সম্পর্কে তিনি বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধগুলো সাধারণত দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের অধিকাংশ রোগের চিকিৎসায় যথেষ্ট। এসব ওষুধের ওপর মূল্য নিয়ন্ত্রণ হলে সরাসরি সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ও ওষুধপ্রাপ্যতা নিশ্চিত হবে। এটি একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।
এ ছাড়া তালিকার বাইরে থাকা প্রায় ১ হাজার ১০০ ওষুধের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দাম না বেঁধে একটি দামের পরিধি নির্ধারণ করা হবে। সায়েদুর রহমান জানান, যেসব ওষুধ সাতটির বেশি প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত হয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে বাজারদরের গড় ধরে দাম নির্ধারণ করা হবে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোনও ওষুধ ১০ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হলে গড় দাম ১৫ টাকা ধরে এর সঙ্গে ১৫ শতাংশ যোগ-বিয়োগের সুযোগ থাকবে।
আর যেসব ওষুধের উৎপাদক সাতটির কম, সেগুলোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারদর বিবেচনায় নিয়ে দামের পরিধি ঠিক করা হবে।
তিনি আরও জানান, মূল্য নির্ধারণসংক্রান্ত নীতিমালার অনুমোদন সভায় দেয়া হয়েছে। শিগগিরই তা প্রকাশ করা হবে। নতুন উৎপাদনে আসা ওষুধের ক্ষেত্রেও এই নীতিমালা কার্যকর থাকবে।
এ জাতীয় আরো খবর..