নাক বন্ধ, আরাম পেতে বিশেষজ্ঞদের ৮ কার্যকর পরামর্শ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০১-০৬, | ১৮:৩৪:৩৪ |
শীত, ধুলাবালি, ঠান্ডা লাগা কিংবা অ্যালার্জি যে কারণেই হোক, নাক বন্ধ হয়ে গেলে দৈনন্দিন কাজকর্মই যেন কষ্টকর হয়ে ওঠে। ঠিকমতো শ্বাস নিতে না পারা, রাতে ঘুমের ব্যাঘাত কিংবা মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা এই সমস্যাগুলো আমাদের অনেকেরই পরিচিত। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় নাসাল কনজেশন।

নাকের ভেতরের টিস্যু ফুলে গেলে ও অতিরিক্ত মিউকাস জমে গেলে এই সমস্যা দেখা দেয়। সাধারণত সর্দি-কাশি বা ফ্লু সেরে গেলে নাক বন্ধের সমস্যাও কমে যায়। তবে তার আগেই যদি কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায় তাহলে তো মন্দ হয় না।  কিছু বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত ও নিরাপদ উপায় আছে, যেগুলো দ্রুত নাক খুলতে সাহায্য করে। চলুন জেনে নেয়া যাক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে এমন ৮টি কার্যকর কৌশল।

১. স্যালাইন দিয়ে নাক ধোয়া

স্যালাইন পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করলে ভেতরের জমে থাকা মিউকাস, ধুলা ও অ্যালার্জেন বের হয়ে যায়। নেটি পট, স্কুইজ বোতল বা স্যালাইন স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি নাকের বাতাস চলাচল স্বাভাবিক করতে বেশ কার্যকর। সবসময় ফুটানো ঠান্ডা পানি বা ডিস্টিল্ড পানি ব্যবহার করুন, নইলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।

২. ভাপ নেয়া বা উষ্ণ আর্দ্রতা

গরম পানির ভাপ নিলে নাকের ভেতর আর্দ্রতা তৈরি হয় এবং জমে থাকা মিউকাস নরম হয়ে আসে। গরম পানিতে গোসল করলেও একই উপকার পাওয়া যায়। চাইলে নাক ও কপালে গরম সেঁক দিতে পারেন এতে সাইনাসের চাপ কমে।

৩. পর্যাপ্ত পানি পান করুন

শরীর হাইড্রেটেড থাকলে মিউকাস পাতলা হয় এবং সহজে বের হয়ে আসে। পানি, হারবাল চা বা গরম স্যুপ নাক বন্ধের অস্বস্তি কমাতে দারুণ সহায়ক।


৪. ডিকনজেস্ট্যান্ট ব্যবহার, তবে সাবধানে

নাকের স্প্রে বা ডিকনজেস্ট্যান্ট ওষুধ নাকের ভেতরের রক্তনালি সঙ্কুচিত করে দ্রুত আরাম দেয়। তবে এসব স্প্রে ৩–৫ দিনের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। বেশি দিন ব্যবহার করলে ‘রিবাউন্ড কনজেশন’ হতে পারে মানে ওষুধ ছাড়লে নাক আরও বেশি বন্ধ হয়ে যায়। হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৫. হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন

শুষ্ক আবহাওয়া বা শীতকালে ঘরের বাতাস নাকের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। হিউমিডিফায়ার বাতাসে আর্দ্রতা যোগ করে নাকের ভেতরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।


৬. ঘুমানোর সময় মাথা একটু উঁচু রাখুন

চিৎ হয়ে শুলে নাক বেশি বন্ধ লাগে। অতিরিক্ত একটি বালিশ ব্যবহার করে মাথা একটু উঁচু রাখলে মিউকাস সহজে নিচে নামতে পারে এবং রাতে শ্বাস নিতে সুবিধা হয়।


৭. যেসব জিনিস সমস্যা বাড়ায়, সেগুলো এড়িয়ে চলুন

ধূমপান, ধুলা, তীব্র সুগন্ধি, ধোঁয়া বা দূষণ এসব নাকের ভেতরের টিস্যুকে আরও ফুলিয়ে দেয়। অ্যালার্জির সময় এসব এড়িয়ে চললে সমস্যা অনেকটাই কমে।

৮. জোরে নাক ঝাড়া নয়

অনেকেই মনে করেন, জোরে নাক ঝাড়লেই আরাম মিলবে। আসলে এতে মিউকাস আরও ভেতরে চলে যেতে পারে। এক পাশ করে হালকা হাতে নাক ঝাড়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

নাক বন্ধ হওয়া ছোট সমস্যা মনে হলেও এটি ঘুম, কাজ ও মনোযোগ সবকিছুর ওপর প্রভাব ফেলে। স্যালাইন রিন্স, ভাপ নেওয়া, পানি পান ও সঠিকভাবে ওষুধ ব্যবহারের মতো সহজ অভ্যাসগুলো দ্রুত আরাম দিতে পারে। তবে এক সপ্তাহের বেশি নাক বন্ধ থাকলে, সঙ্গে জ্বর, মুখে ব্যথা বা সবুজ রঙের স্রাব দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সঠিক যত্ন নিলে নাক বন্ধের সমস্যা আর আপনার গতিরোধ করবে না শ্বাস নিন স্বস্তিতে, থাকুন স্বাভাবিক।

সূত্র: এনডিটিভি 

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..