নতুন নোটের মূল্য নিয়ে অস্থিরতা, ক্রেতাদের ক্ষোভ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৩-১৮, | ১৪:৩৫:৫৫ |
ঈদুল ফিতর উদযাপনকে কেন্দ্র করে সালামি ও উপহার দেওয়ার জন্য নতুন নোটের দোকানগুলোতে ভিড় বেড়েছে। সেই সঙ্গে বিক্রেতারাও বিভিন্ন অঙ্কের নতুন নোট সাজিয়ে ফুটপাতে বসে বিক্রি করছেন। তবে এই নতুন নোট কেনা-বেচায় মূল্য নির্ধারণ নিয়ে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে মূল্য বেড়েই চলছে।

ব্যাংকে নতুন নোট না থাকলেও ফুটপাতের দোকানগুলোতে ঠিকই পাওয়া যাচ্ছে। বান্ডেল প্রতি ১৫০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি করে বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ২ টাকার নোট। 

বিক্রেতারা বলছেন, তারা বেশি মূল্য দিয়ে কিনে এনেছেন তাই তাদের বেশি মূল্য বিক্রি করতে হচ্ছে। তারা ১০ টাকা থেকে ২০ টাকার বেশি লাভ করছেন না।

দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নতুন নোটের মধ্যে ২ টাকার নতুন নোটের ব্যান্ডেল (১০০ পিছ) বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকায়। ৫ টাকার নতুন নোটের বান্ডেল (১০০ পিছ) বিক্রি হচ্ছে ৬৮০ থেকে ৭০০ টাকায়। ১০ টাকার নতুন নোটের বান্ডেল (১০০ পিছ) বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ টাকায়। ২০ টাকার নতুন নোটের বান্ডেল (১০০ পিছ) ২৫০০ টাকায়, ৫০ টাকার নতুন নোটের
বান্ডেল (১০০ পিছ) বিক্রি হচ্ছে ৫৩০০ টাকা ও ১০০ টাকার নতুন নোটের বান্ডের (১০০ পিছ) বিক্রি হচ্ছে ১০ হাজার ৩০০ টাকায়।

রিজভী নামে এক নতুন নোট ক্রেতা বলেন, ১০ টাকার নতুন নোটের বান্ডেল (১০০ পিছ) ১৪০০ টাকা চাচ্ছে। ১৩৫০ টাকা রাখার জন্য অনেক অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারা ১৪০০ টাকার কমে বিক্রি করবে না। বিগত বছরগুলোতে এত দাম দেখা যায়নি।

লিয়াকত হোসেন নামে এক নতুন নোট বিক্রেতা বলেন, আমরা ঢাকার গুলিস্তানের হকার থেকে এই টাকাগুলো ক্রয় করে নিয়ে আসি। যে দামে কিনে নিয়ে আসি তার থেকে ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করে থাকি। আমাদের তেমন লাভ হয় না। ঈদে নতুন টাকা কেনার চাহিদা থাকে তাই প্রতি ঈদে নতুন টাকা বিক্রি করে কিছু টাকা আয় করে থাকি।

বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, ব্যাংকে চাকরি করি তাই বন্ধুরা নতুন নোটের কথা বলে। ব্যাংকে নতুন নোট পাইনি। তাই ফুটপাত থেকে আমি নিজেও নতুন নোট কিনতে এসেছি। এগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা যোগসাজশ করে বিক্রি করে থাকে। ব্যাংকে টাকা থাকে না কিন্তু হকারদের কাছে ঠিকই টাকা পাওয়া যায়।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হৃদয় রঞ্জন বনিক বলেন, এভাবে নতুন নোট বিক্রির কোনো বৈধতা নেই। অবৈধভাবেই বিক্রি করে আসছে। সেই সঙ্গে আমরা বেশি দামে বিক্রিরও অভিযোগ পাচ্ছি। এগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক তদারকি করে থাকে। এখানে আমাদের তদারকি করার এখতিয়ার নেই।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..