ই-সিগারেট ও ভ্যাপসহ সব বিকাশমান তামাকপণ্য নিষিদ্ধ, অধ্যাদেশ জারি

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০১-০১, | ১৬:৫৭:২৯ |
ই-সিগারেট, ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকোসহ সব ধরনের বিকাশমান তামাকপণ্য নিষিদ্ধ করে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ কার্যকর করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর)  আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ এ অধ্যাদেশ জারি করে।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ২০০৫ সালের ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনকে আরও শক্তিশালী করতেই এ সংশোধনী আনা হয়েছে। তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া এবং বিচ্ছিন্ন আইন বাতিল করে একটি সমন্বিত আইন কাঠামো গড়ে তুলতেই এ অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে।

অধ্যাদেশে ‘তামাকজাত দ্রব্য’র সংজ্ঞা সম্প্রসারণ করে ই-সিগারেট, ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ইএনডিএস), হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি), নিকোটিন পাউচসহ সব ধরনের বিকাশমান তামাকপণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনে সরকার প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে যেকোনো পণ্যকে তামাকজাত দ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে।

এতে ‘নিকোটিন’ ও ‘নিকোটিনজাত দ্রব্য’র পৃথক সংজ্ঞা সংযোজন করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘পাবলিক প্লেস’-এর সংজ্ঞাও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করা হয়েছে। নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি মালিকানাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস, হাসপাতাল, ক্লিনিক, আদালত, বিমানবন্দর, বন্দর, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, বিপণীবিতান, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, কমিউনিটি সেন্টার, সামাজিক অনুষ্ঠানস্থল, পাবলিক টয়লেট, শিশুপার্ক, মেলা এবং যাত্রীদের অপেক্ষার সারিসহ জনসাধারণের ব্যবহার্য সব স্থান ‘পাবলিক প্লেস’ হিসাবে গণ্য হবে। এসব ভবনের বারান্দা, প্রবেশ ও বহির্গমন গেট, আশপাশের উন্মুক্ত স্থান, মাঠ ও বাগানও এর আওতায় পড়বে।  

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সব পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপানের পাশাপাশি যেকোনো তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

তামাকজাত দ্রব্যের সব ধরনের বিজ্ঞাপন ও প্রচার কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন, বিক্রয়স্থলে প্যাকেট প্রদর্শন, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কার্যক্রমে তামাক কোম্পানির নাম বা লোগো ব্যবহার এবং কোনো অনুষ্ঠান বা কর্মসূচিতে তামাক কোম্পানির আর্থিক সহায়তা প্রদান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এ ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

অধ্যাদেশে ই-সিগারেট ও অন্যান্য বিকাশমান তামাকপণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রি ও ব্যবহারকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

একই সঙ্গে কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতার বিড়ির উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত ‘বিডি ম্যানুফ্যাকচার (প্রোহিবিশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৫’ বাতিল করা হয়েছে।

তামাক বা তামাকজাত দ্রব্যের সঙ্গে যেকোনো ক্ষতিকর আসক্তিমূলক উপাদান মেশানোও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের অন্তত ৭৫ শতাংশ জায়গাজুড়ে রঙিন স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ও ছবি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং ছাড়া এসব পণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ থাকবে।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানিয়েছে, অধ্যাদেশে শাস্তির মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পাশাপাশি কোম্পানির ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল, মালামাল জব্দ এবং ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী মামলা পরিচালনার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..

Dhaka Forecast & Prayer Schedule

--°C
Loading...
💧 Humidity
--%
🌬 Wind
-- km/h

3-Day Forecast

Prayer Time

🕌 Fajr 🕌 Dhuhr
-- --
🕌 Asr 🕌 Maghrib
-- --
🕌 Isha
--
Loading countdown…
দেশ ও মুদ্রা ১ ইউনিট = টাকা পরিবর্তন
⏳ Currency data loading...