ম্যারাডোনার জার্সিতেই সেমিফাইনাল, সৌভাগ্যের খোঁজে আর্জেন্টিনা!

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১৩, | ২১:৩৪:৪০ |

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। যাদের সঙ্গে লড়াইয়ে আছে ঐতিহাসিক গুরুত্বও। তবে আটলান্টার এই লড়াইয়ের আগে বিশেষ এক অনুরোধ করেছে আর্জেন্টিনা দল।

বুধবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে কী জার্সি পরবে, তা নিয়েই এই অনুরোধ আর্জেন্টিনার। ঐতিহ্যবাহী হোম কিটের বদলে নীল রঙের অ্যাওয়ে জার্সি পরার অনুমতি চেয়ে ফিফার কাছে আবেদন করেছে লিওনেল স্কালোনির দল।

রবিবার সন্ধ্যায় এই খবর জানান পুরো টুর্নামেন্ট ধরে মাঠ থেকে জাতীয় দলের খবর জানানো আর্জেন্টাইন সাংবাদিক গাস্তন এদুল। এক্স-এ তিনি লেখেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নীল জার্সি পরে খেলার অনুরোধ করেছে আর্জেন্টিনা। গেল রাতে এই অনুমতি দিয়েছে ফিফা।

এই টুর্নামেন্টে মাত্র একবারই নীল অ্যাওয়ে কিট পরেছে লা স্কালোনেতা। ডালাস স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে সেই কিট পরে ৩-১ গোলে জিতেছিল তারা।

নীল অ্যাওয়ে জার্সি পরে আর্জেন্টিনার ইতিহাস মোটেও ভালো নয়। ১৯৯০ সালের ফাইনালে এই অ্যাওয়ে জার্সি পরে খেলেছিল আর্জেন্টিনা, সেই ম্যাচে জিতেছিল জার্মানি। ২০০৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে এই অ্যাওয়ে জার্সি পরেই হারে আকাশী-সাদারা। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালেও এই অ্যাওয়ে জার্সি পরেই শিরোপা হাতছাড়া হয়েছে লিওনেল মেসিদের। 

এরপর থেকে বিশ্বকাপ নকআউটে ৮ ম্যাচ খেলেছে আর্জেন্টিনা। তার একটিতেও ওই জার্সি পরে আর খেলেননি আলবিসেলেস্তেরা। সেই ফাইনালের ১২ বছর পর আবারও অ্যাওয়ে জার্সি পরে নামছে আর্জেন্টিনা।   

আর্জেন্টিনার অনুরোধের পেছনে কাজ আছে যে ‘কুসংস্কার’

অ্যাওয়ে জার্সি পরে দলের ইতিহাস এত খারাপ হওয়ার পরও আর্জেন্টিনা কেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওই জার্সি পরেই খেলতে চাইছে? তার একটা কারণ হতে পারে কুসংস্কার আর সৌভাগ্যের বিশ্বাস। আর্জেন্টিনায় একে বলা হয় ‘কাবালা’।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে মোট পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। এর মধ্যে তিনবারই ছিল নকআউট পর্বের ম্যাচ। এই লড়াইয়ে সামান্য এগিয়ে ইংল্যান্ড, তিনটি জয় নিয়ে। আর্জেন্টিনার জয় দুটি। এর মধ্যে আছে ১৯৮৬ সালের সেই বিখ্যাত কোয়ার্টার ফাইনাল, যেখানে দিয়েগো ম্যারাডোনা করেছিলেন তার বিখ্যাত ‘শতাব্দীর সেরা গোল’। আরেকটি জয় আসে ১৯৯৮ সালে শেষ ষোলোর ম্যাচে টাইব্রেকারে।

মজার বিষয় হলো, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি জয়ের সময়ই আর্জেন্টিনা তাদের পরিচিত নীল-সাদা ডোরাকাটা হোম জার্সির বদলে গাঢ় নীল রঙের অ্যাওয়ে জার্সি পরেছিল।

আর্জেন্টিনার এই অনুরোধের পেছনে এটিও একটি কারণ হতে পারে। আর্জেন্টাইন সংস্কৃতিতে, বিশেষ করে ফুটবলে, কুসংস্কার বা কাবালার গুরুত্ব কতটা, তা কারও অজানা নয়।

এর আগেও এমন অনেক উদাহরণ দেখা গেছে। এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া ম্যাচের দিন লিওনেল মেসি ও রদ্রিগো দে পলের সঙ্গে মাতে পান করার ছবি পোস্ট করেছিলেন। এমনকি সৌভাগ্যের আশায় খেলা দেখার সময় একই আসন বিন্যাস ধরে রাখার কথাও বলেন অনেক সমর্থক।

তবে কুসংস্কারের বিষয়টি বাদ দিলেও আর্জেন্টিনার এই অনুরোধ নিছক বাস্তবসম্মত একটি সিদ্ধান্তও হতে পারে। মঙ্গলবারের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ‘হোম’ টিম হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে ফিফা। দুই দলের জার্সিতে সাদার আধিক্য চোখে পড়ার মতো, তাই আর্জেন্টিনার অ্যাওয়ে কিট পরাই স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী যুক্তিসঙ্গত।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..