✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১৩, | ২১:২৯:১১ |ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সেমিফাইনালের মঞ্চ প্রস্তুত। ফুটবল বিশ্বের চোখ এখন শেষ চারের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের দিকে। এবারের আসরে সেমিফাইনালে ওঠা চার পরাশক্তির মধ্যে কোন দলটি সবচেয়ে শক্তিশালী এবং কার হাতে উঠতে পারে সোনালি ট্রফি—তা নিয়ে চলছে তুমুল বিশ্লেষণ।
এই মহাযুদ্ধে নিজের ফেবারিট দল বেছে নিয়েছেন জার্মানির কিংবদন্তি গোলরক্ষক অলিভার কান। তার মতে, এবার শিরোপা জয়ের দৌড়ে আর্জেন্টিনা নয়, বরং কিলিয়ান এমবাপ্পেদের ফ্রান্সই সবচেয়ে এগিয়ে এবং ওরাই এই মুহূর্তের সবচেয়ে ‘পরিপূর্ণ’ দল।
আগামী ১৫ জুলাই ডালাসের স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ও স্পেন। এর আগে ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল, যেখানে স্প্যানিশদের ৩-১ ব্যবধানে বিদায় করেছিল লেস ব্লুসরা। দীর্ঘ দুই দশক পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আবারও এই দুই পরাশক্তির দেখা মিলছে।
এই হেভিওয়েট ম্যাচকে সামনে রেখে অলিভার কান জানান, টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত দলগুলোর পারফরম্যান্স বিবেচনা করলে ফ্রান্সকেই সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ মনে হয়। স্কোয়াডের গভীরতা এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে ম্যাচ বের করে নেওয়ার অসামান্য ক্ষমতার কারণে ফ্রান্স বাকিদের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে থাকবে। তবে সেমিফাইনালে ওঠা চার দলের মধ্যকার ব্যবধান এতটাই কম যে, যেকোনো দলেরই বিশ্বজয় করার সামর্থ্য রয়েছে।
স্পেন ও ফ্রান্সের এই সেমিফাইনাল ম্যাচটিকে চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা কৌশলগত লড়াই বা ‘ট্যাকটিক্যাল ব্যাটল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন অলিভার কান। একদিকে রয়েছে স্পেনের বল পজিশন বা বল দখলে রেখে আক্রমণ করার চিরচেনা শৈলী, অন্যদিকে ফ্রান্সের শক্তির জায়গা হলো তাদের বিধ্বংসী কাউন্টার-অ্যাটাকিং বা প্রতি-আক্রমণ ফুটবল। অলিভার কানের মতে, যে দল নিজেদের রক্ষণাত্মক কাঠামো ঠিক রেখে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে, তাদের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি থাকবে। সেমিফাইনালে মতো বড় ম্যাচগুলো সাধারণত পুরো ৯০ মিনিট দাপট দেখিয়ে জেতা যায় না, বরং ম্যাচের ছোট ছোট সূক্ষ্ম মুহূর্ত এবং সঠিক সিদ্ধান্তই জয়-পরাজয় নির্ধারণ করে দেয়।
ফরাসিদের জমাট রক্ষণভাগ ভাঙতে স্পেনের করণীয় কী হতে পারে, সে বিষয়েও পরামর্শ দিয়েছেন এই জার্মান কিংবদন্তি। অলিভার কান মনে করেন, স্প্যানিশ ফুটবলারদের চরম ধৈর্য দেখাতে হবে এবং উদ্দেশ্যহীন পাসের বদলে দ্রুত বল পাসিংয়ের মাধ্যমে ফরাসি ডিফেন্সে ফাটল ধরাতে হবে। একইসঙ্গে রক্ষণভাগে দারুণ ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি, কারণ ফ্রান্স ট্রানজিশনে বা রক্ষণ থেকে দ্রুত আক্রমণে ওঠার ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। মাঝমাঠের দখল নেওয়ার জন্য শুধু অনবরত প্রেসিং করলেই হবে না, বরং বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে প্রতিপক্ষকে বোকা বানাতে হবে।
নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা থেকে অলিভার কান আধুনিক ফুটবলে গোলরক্ষকদের ভূমিকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আধুনিক ফুটবলে গোলরক্ষকরা কেবল শেষ ডিফেন্ডারই নন, তারা দলের প্রথম আক্রমণকারীও বটে। এই ধরনের হাইভোল্টেজ ম্যাচে গোলরক্ষকের একটি সঠিক সিদ্ধান্ত যেমন দলকে ফাইনালে তুলতে পারে, তেমনি একটি ছোট ভুল পুরো স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিতে পারে। চাপের মুখে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে যারা নিজেদের পরিকল্পনা ধরে রাখতে পারবে, শেষ হাসি তারাই হাসবে।
সূত্র: এনডিটিভি