সর্বশেষ :
মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী মা-মেয়েসহ ৪ খুনের ঘটনায় থানায় এজাহার ছেলের ইরানের আমন্ত্রণে দ্বিধায় নয়াদিল্লি, খামেনির শেষকৃত্যে মোদির অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন স্পেন-উরুগুয়ে ম্যাচেই মিলবে উত্তর, শেষ ষোলোতে কার মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড? ‘আমাদেরও জেতার সুযোগ থাকবে’, ব্রাজিলকে হুঙ্কার জাপানের ৩৯ বছর বয়সেও কেন অনন্য মেসি, ব্যাখ্যা করলেন পেদ্রি বেইজিংয়ে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির জাদুঘর পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্র করেও নকআউটে অস্ট্রেলিয়া, অপেক্ষায় প্যারাগুয়ে ইতিহাস গড়া সাফল্যে ইকুয়েডরে সরকারি ছুটি ঘোষণা শেষ দেখায় জয় পেয়েছিল জাপান, এবারও কি ব্রাজিল হারবে?

লক্ষ্মীপুর

মা-মেয়েসহ ৪ খুনের ঘটনায় থানায় এজাহার ছেলের

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-২৬, | ১৯:১৩:৫৫ |
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরশহরে মা ও তিন মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় এখনো কাটেনি রহস্য। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হলেও হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে নিহত শাহিনুর বেগমের একমাত্র ছেলে জুনায়েদ হোসেন সিফাত বাদী হয়ে রায়পুর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। এতে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

অন্যদিকে, হত্যাকাণ্ডের পর গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারকে (২৮) হত্যার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকেও পৃথক একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া।

স্থানীয়দের ধারণা, লুটপাটের উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। রায়পুর পৌর বণিক সমিতির সভাপতি ও নিহত শাহিনুরের ছেলে সিফাতের কর্মস্থলের মালিক সফিকুল ইসলাম মুরাদ জানান, শাহিনুর বেগম বাসার মালিক আমির হোসেন মাস্টারের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ছিলেন। ভবনের ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে মাসিক ভাড়া সংগ্রহের দায়িত্বও তার ওপর ছিল। ফলে প্রতি মাসে তার কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ থাকত। অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার ভবনের সাবেক ভাড়াটিয়া হওয়ায় বিষয়টি জানতেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার মতে, টাকার লোভ থেকেই অন্তর বাসায় প্রবেশ করে থাকতে পারেন।

তবে প্রতিবেশী ও স্বজনদের অনেকেই মনে করছেন, অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটই হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য হতে পারে। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে রাজি নয় পুলিশ।

এদিকে, নিহতদের মরদেহ নিতে বৃহস্পতিবার রাতেই কুমিল্লা থেকে লক্ষ্মীপুরে ছুটে আসেন শাহিনুরের বাবা দাদন মিয়া, ভাই ছানা উল্যা ও দেবর জামাল হোসেনসহ স্বজনরা। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে মা ও তিন মেয়ের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। বাদ জুমা রায়পুরের পৌর দেনায়েতপুর এলাকার ভাড়া বাসার সামনে জানাজা শেষে মরদেহগুলো কুমিল্লার নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়। 

পরে হোমনা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নটিয়া গ্রামের সরকার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

নিহত শাহিনুরের ভাই ছানা উল্যা বলেন, যতবার বোনকে সংসার নিয়ে আমাদের বাড়িতে যেতে বলেছি, ততবারই সে বলেছে রায়পুরেই ভালো আছে। এখানে প্রতিবেশী ও পরিচিতজনরা অনেক সহযোগিতা করে। ছেলে-মেয়েরা ভালোভাবে মানুষ হবে বলেই সে এখানে থাকতে চেয়েছিল। অথচ যে জায়গাকে সবচেয়ে নিরাপদ ভেবেছিল, সেখানেই মেয়েদের নিয়ে তার জীবন শেষ হলো।

তিনি আরও বলেন, আমাদের জানামতে, রায়পুরে তাদের কোনো শত্রু ছিল না। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

শাহিনুরের দেবর জামাল হোসেন বলেন, আমার ভাবি খুব ভালো মানুষ ছিলেন। ভাতিজিরাও মেধাবী ও অমায়িক ছিল। হঠাৎ এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল, কিছুই বুঝতে পারছি না।

নিহত শাহিনুরের বাবা দাদন মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমরা এখন কী করব বুঝতে পারছি না। আমার মেয়ে ও নাতনিদের কেন এভাবে মরতে হলো? তারা তো কোনো দোষ করেনি। একমাত্র নাতিটা এখন পৃথিবীতে একা হয়ে গেল।

ঘটনার পর চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মনিরুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। টিমের প্রধান করা হয়েছে রায়পুর থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল মান্নানকে।

রায়পুর থানার ওসি শাহীন মিয়া বলেন, বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছেনি ও পাটার শিল উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো জানা যায়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) অরুপ পাল বলেন, চারজনের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের মাথা, বুক ও হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। নিহত অন্তরের সুরতহাল এখনো হয়নি। সুরতহাল শেষে তার মরদেহেরও ময়নাতদন্ত করা হবে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীপাড় সড়কের আমির হোসেন মাস্টারের পাঁচতলা ভবনের নিচতলার বাসায় ঢুকে শাহিনুর বেগম (৩৮), তার মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) ও ফাতেমা আক্তার শিফাকে (১০) কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দা আফরোজা বেগম রানী জানালা দিয়ে এক ব্যক্তিকে দেখতে পান এবং বাইরে থেকে গেট বন্ধ করে দেন। এতে অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে। পরে তিনি আশপাশের লোকজনকে খবর দিলে স্থানীয়রা বাসায় ঢুকে রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

একপর্যায়ে অন্তর ভবনের ছাদে উঠে পাশের বাড়ির ছাদ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে ধরে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় দেড় বছর ওই ভবনের পঞ্চম তলায় ভাড়া থাকতেন অন্তর মজুমদার। প্রায় আট মাস আগে তিনি বাসা ছেড়ে চলে যান। বাসাভাড়ার টাকা শাহিনুরের কাছে জমা থাকত এবং তার কাছে কিছু স্বর্ণালংকারও ছিল বলে অন্তর জানতেন। এ কারণে ডাকাতির উদ্দেশ্যেই তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..